০৯ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৩১

সাবজেক্ট সমন্বয় করে ফল, রেজাল্ট কমার সুযোগ নেই

এইচএসসি পরীক্ষা  © ফাইল ফটো

এইচএসসি পরীক্ষা হবে না— মন্ত্রণালয়ের এমন ঘোষণার পর এখন চলছে কোন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হবে, সেই হিসাব-নিকাশ। গতকাল বৃহস্পতিবার এ নিয়ে একটি বৈঠকও করেছে ফল প্রকাশের গঠিত পরামর্শক কমিটি। বৈঠক সূত্র বলছে, একেবারেই নতুন এই পদ্ধতিতে এইচএসসির গ্রেড তৈরির বিষয়টি কষ্টসাধ্য ও জটিল। কারণ, যেহেতু এইচএসসি সাবজেক্টগুলোর সঙ্গে এসএসসি ও জেএসসির সাবজেক্টের মিল নেই। স্বভাবতই এইচএসসির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’-এর বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

তবে ফল যেভাবেই হোক, তা কমবে না, বরং বাড়বে বলে আশ্বস্ত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, জেএসসি এবং এসসসির ফল যেভাবেই গড় করি না কেন; কোনো একজন শিক্ষার্থী যদি জেএসসির কোনো সাবজেক্টে বেশি নাম্বার পেয়ে থাকে এবং এসএসসিতে কম পায়। তবে বেশি নাম্বারটুকু এসএসসির সঙ্গে যোগ হয়ে যাবে এবং এইচএসসিতে তার ফল বেড়ে যাবে। সুতরাং ফল কমার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে যে বিষয়গুলো পড়েছে, হুবহু সেই বিষয়গুলো এইচএসএসিতে নেই। এক্ষেত্রে আমরা একটি ম্যাপিং তৈরি করছি; সেখানে এসএসসির কোন সাবেজেক্টের এইচএসসির কোনো সাবজেক্ট ‘অ্যাড্রেস’ করা যায়। আশা করি— পুরো এই প্রক্রিয়া দ্রুতই সম্পন্ন করতে পারব।

বৈঠক সূত্র বলছে, এইচএসসিতে অন্যান্য বছরের শিক্ষার্থীদের যেমন সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট দেয়া হয়; এবারের সনদ-ট্রান্সক্রিপ্টেও একইভাবে সব বিষয় ও নাম্বারিং থাকবে। অর্থ্যাৎ পরীক্ষাহীন রেজাল্ট হলেও প্রত্যেক বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা নাম্বার থাকবে এবং তার ভিত্তিতে মোট জিপিএ নির্ধারণ হবে।

মোট চারটি ক্যাটাগরিতে ফল প্রকাশ হবে বলেও জানা গেছে। ক্যাটাগরিগুলো হলো— নিয়মিত, অনিয়মিত, মান উন্নয়ন এবং অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের ফল। এদের সবগুলোই আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে এ নিয়ে গাইডলাইন প্রস্তুত করা হবে। পরে নানা বিষয় বিবেচনায় আমলে নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে এই ফল ঘোষণা করা হবে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ে প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েটি বিষয় বিশেষ করে ফল প্রকাশের উপায়ের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত, অনিয়মিত ও অন্যান্যদের ফল কীভাবে হবে— সেটা নিয়েও কথা হয়েছে।

তবে এতকিছুর বাইরেও ফল সন্তোষজনক হবে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। ফারহানা নামে এক পরীক্ষার্থীরা ভাষ্য, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক লেভেলে বাংলাদেশে শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি হলো এসএসসি ও এইচএসসির ফল। জেএসসি’র ফল যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিসহ অনেক ক্ষেত্রে কাজে লাগে না; তাই এই ফলকে শিক্ষার্থী তো বটেই, অনেক অভিভাবকও এসএসসির মত গুরুত্ব দেন না। স্বভাবতই যাদের জেএসসির ফল খারাপ, তাদেরকে ভুগতে হবে।