অটো পাস কখনোই কাঙ্ক্ষিত ছিল না: শিক্ষামন্ত্রী
সদ্য দায়িত্ব নেওয়া শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মব করে পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া, অটো পাস নেওয়া কখনোই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় কার্যদিবসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এসব কেনো হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা পুরোনো গল্পে যাব না। তবে আমাদের যেই ভিশন-মিশন সেটা ইশতাহারে ছিল। আজকে আমাদের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী লিখিতভাবে আবারও সেটা পড়ে শোনালেন। আমরা সেটাকে সামনে রেখে আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করব। ইতোমধ্যেই (মন্ত্রণালয়ের) যে সকল ডিপার্টমেন্ট আছে সেগুলোকে ইন্সট্রাকশন দিয়েছি।
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র হয়ে গিয়েছে, সেটা ডিস্ট্রিবিউশনে যেন কোনো সমস্যা না হয় এবং পরীক্ষা নিয়ে যেন কোনো ঝামেলা না হয় সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। পরবর্তীতে আমরা আরো ব্যাপক আলোচনায় যাব।
একই মন্ত্রণালয়ে আবারও দায়িত্বপালন করা নিয়ে আহছানুল হক মিলন বলেন, ২০০১ সালে যখন আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন বরিশাল বোর্ড বানিয়েছিলাম। সেটার প্রধান করেছিলাম একটি পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপালকে। তখন বিসিএস শিক্ষা প্রশাসনের নেতারা এসে বলল যে, আমি নাকি ট্রেডিশন ব্রেক করেছি। অর্থাৎ সরকারি শিক্ষকের মধ্য থেকে নিতে হবে, এটা ট্রেডিশন, বাট দ্যাটস নট এ রুল।
‘‘তো, তখন দুপুর ১২টা। বিসিএস শিক্ষা সমিতি, যেটা আমাদের ছিল অ্যাসোসিয়েশন, সেটা তখন বিগত রাজনীতির কভারই ছিল। আমি তাদের বললাম, যে আপনি তো এই ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকতা করতে এসেছেন, নিশ্চয়ই ব্ল্যাকবোর্ড, চক অ্যান্ড ডাস্টার নিয়ে পড়াবেন ছাত্রকে। বোর্ডগুলোতে কোনো ক্লাসরুম আছে, চক অ্যান্ড ডাস্টার, ব্ল্যাকবোর্ড আছে? বলল, না।’’
‘‘তাহলে সেটা কী? সেটা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। তো আমার তো দায়িত্ব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চালানো। আমি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চালাব, আপনি যান শিক্ষকতা করবেন। কোথায় ব্ল্যাকবোর্ড, চক অ্যান্ড ডাস্টার এবং আপনার ছাত্র-শিক্ষার্থী রয়েছে, সেখানে যান। আপনি শিক্ষকতা করবেন, ক্লাসরুম ছেড়ে আন্দোলন করবেন এটা তো হতে পারে না।’’
শিক্ষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের দাবি-দাওয়া যা আসে, আমরা তা দেখব। রাজপথ দখল করে কোনো দাবি-দাওয়া আদায়ের প্রয়োজন নেই। আমরা বুঝি কোনটা দিতে হবে, কোনটা দিতে হবে না। আমরা তাদের (শিক্ষক) পক্ষেই থাকি, কেননা, তাঁরা তো মানুষ গড়ার কারিগর। আমি আশা করি, তারা আমাদের মেসেজ পেয়ে গেছে এবং পেয়ে যাবে এবং সেভাবেই তারা কাজ করবে।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে কেউ বিন্দুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ করতে পারেনি। এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাকি দশটা মন্ত্রণালয়ের মতো না।
বিদ্যমান কারিকুলাম থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা কারিকুলাম রিভিউ করবো, যেখানে যা পরিমার্জন করা প্রয়োজন সেটা করবো। এখানে আমাদের এনসিটিবির এক্সপার্ট যারা আছেন তাদের মধ্যে কিছুটা সমন্বয় সাধনের বিষয় আছে। সেটা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।