শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের দায়িত্বে রেখে মাধ্যমিকের জন্য নতুন শিক্ষা অধিদপ্তর গঠনের সুপারিশ
মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের দায়িত্বে পৃথক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার সার্বিক দায়িত্ব এই নতুন অধিদপ্তরের অধীনে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কনসালটেশন কমিটির খসড়া প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান নীতিনির্ধারণী ও সামগ্রিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের উদ্দেশ্যে নির্বাহী কাজের দায়িত্ব যথাসম্ভব অধিদপ্তর ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরে অনতিবিলম্বে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য সদিচ্ছাসহ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এতে বলা হয়, মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ভিন্ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে কার্যকর হওয়া উচিত। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার দায়িত্ব থাকবে এই অধিদপ্তরের। এই অধিদপ্তর পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে।
এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত ‘মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন টাস্কফোর্স’কে স্থায়ী কাঠামোয় রূপ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রস্তাবও করেছে কমিটি।
কমিটি বাংলাদেশের জলবায়ুর সঙ্গে সংগতি রেখে সেপ্টেম্বর থেকে জুন বা কাছাকাছি সময়ে শিক্ষাবর্ষ নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজপাঠ ও বিজ্ঞান বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা সীমিত রাখতে বলেছে। আর অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা (জেএসসি ইত্যাদি) বাতিল করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাদ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে অভিন্ন শিক্ষাক্রমের আলোকে পড়িয়ে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ইত্যাদি শাখায় বিভাজন করারও সুপারিশ করেছে।