প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে পরিপত্র জারি, দেখুন এখানে
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-কে দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে সরকার।
পরিপত্র দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পরিপত্র অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫-এর ধারা ৮(ট)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ দায়িত্ব এনটিআরসিএকে অর্পণ করা হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ সুপারিশে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।
পরিপত্রে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট তিন অধিদপ্তর—মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর—প্রতি বছর অন্তত একবার বা সরকার নির্ধারিত সময়ে শূন্য পদের চাহিদা এনটিআরসিএর কাছে পাঠাবে। সর্বশেষ জারিকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এ চাহিদা পাঠাতে হবে।
নিয়োগ সুপারিশের জন্য প্রার্থীদের লিখিত/বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় পাস নম্বর ধরা হয়েছে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ।
লিখিত পরীক্ষায় পদভিত্তিক শূন্য পদের সর্বোচ্চ তিন গুণ প্রার্থী উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। পরে লিখিত, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে ১:১ অনুপাতে তালিকা প্রকাশ করা হবে।
তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে পছন্দক্রম (চয়েস লিস্ট) নেওয়া হবে। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পছন্দ দিতে পারবেন। পছন্দের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানে আগ্রহী হলে অনলাইনে ‘Other Option’-এ সম্মতি দিতে হবে।
প্রার্থীদের পছন্দ ও মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা সহকারী প্রধান হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীকে এনটিআরসিএ যে কোনো এক পর্যায়ের জন্য নিয়োগ সুপারিশ বিবেচনা করবে।
নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থী শূন্য পদের ভুল তথ্য বা প্রাতিষ্ঠানিক কারণে যোগদান করতে না পারলে, শূন্যপদ থাকা সাপেক্ষে মেধাক্রম ও পছন্দ অনুযায়ী পুনরায় নিয়োগ সুপারিশ দেওয়া যাবে।
এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ প্রদানের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জানাবে। এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান এবং ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিকে এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত বা বিভাগীয় মামলায় দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার যোগ্য হবেন না।