১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৯

৪ শতাংশ চাঁদা কর্তনের প্রতিবাদ শিক্ষক-কর্মচারীর

সংবাদ সম্মেলনে দাবি পেশ করছেন শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা  © সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন হতে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ চাঁদা প্রদানের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম। একই সাথে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

আগামী ১০ মে’র মধ্যে বর্ধিত চাঁদা আদায়ের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের মতো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গতবছর ১৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য বেসরকারি শিক্ষকদের মূল বেতন হতে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ চাঁদা কর্তনের আদেশ জারি করে। সেখানে উল্লেখ্য করা হয়- চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই চাঁদা কর্তন করা হবে।

ফলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামসহ সারাদেশে শিক্ষক-কর্মচারীরা এর প্রতিবাদ জানায়। প্রতিবাদের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় প্রজ্ঞাপনটি ভুলে এসেছে। কিন্তু পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাথে আলোচনা না করে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে কারিগরি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে প্রজ্ঞাপন অনুসারে ১০ শতাংশ কর্তন করা হয়।

বক্তারা বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। যদিও প্রশাসন তাদের প্রতিবাদে সাড়া না দিয়ে কারিগরি শিক্ষকদের জানুয়ারি মাসের বেতন হতে ১০ শতাংশ হারে চাঁদা কর্তন করেছে এবং সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন হতে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষা ব্যবস্থা মূল চালকের ভূমিকায় বেসরকারি শিক্ষকরা। তাই শিক্ষার মান উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সম্মান, মর্যাদা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এর সাথে এমপিও ভুক্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য করা হয়, যথাযথ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনা সম্ভব। মেধাবী শিক্ষকরাই ভবিষ্যৎতে উপহার দিবে শিক্ষিত জাতি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব‌্য পাঠ করেন ফোরাম সভাপতি সাইদুল হাসান সেলিম। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব‌্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল বাশার হাওলাদার এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জসিম উদ্দিন।

সম্মেলন শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম। এরপর প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁ কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।

অন্যান্যদের মধ্যে সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফোরামের মহাসচিব আব্দুল খালেক, সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি বিপ্লব কান্তি দাশ, হারুন অর রশিদ, মোদাছ্ছির আলম, আমিনুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মন্টু, মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জব্বার, জি এম শাওন, দেলোয়ার হোসেন আজিজি, আব্দুল হালিম, অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, রেহান উদ্দিন, মো. আমির হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এনামুল ইসলাম মাসুদ, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন সেখ, জহিরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম রুহুল আমিন, এ বি সিদ্দিক জুয়েল, প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান দুলাল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, মো. শাহজাহান আলম, মো. আতিকুল ইসলাম, মো. কামরুল হাসান, মো. গোলাম সাদেক, মো. আরিফুল ইসলাম, এস এম ফরিদ উদ্দিন, মোঃ জামাল উদ্দিন, মো. আব্দুল হালিম, মো. মোজাম্মেল হক, মো. খলিলুর রহমান, মো. রুহুল আমিন, শাহ ইলিয়াস আহমেদ, প্রমুখ।