উৎসবের জন্য প্রস্তুত ৩৬ কোটি পাঠ্যবই
২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি টানা দশমবারের মতো হতে যাচ্ছে ‘বই উৎসব’। নতুন বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের এই উৎসবের প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন করেছে সরকার। এখন শুধু আনুষ্ঠাকিতা। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রায় ৩৬ কোটি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে এবারের উৎসবে। এর মধ্যে ২১ কোটি বই ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বাকি বইগুলোও আগমী দু’দিন অর্থ্যাৎ ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পৌঁছে দেয়া হবে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, সাধারণ বইয়ের পাশাপাশি এবারো নিজেদের ভাষায় বই পাচ্ছে চাকমা, মারমা, সাদ্রী, গারো ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর শিশুরা। তৃতীয়বারের মতো এই বই পাবে তারা। এছাড়াও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অবহেলিত ছিল । অনেকেরই পড়ার আগ্রহ থাকলেও বই জোগাড় করা সম্ভব হত না। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তাদেরও বিনা মূল্যের ব্রেইল বই দেওয়া হচ্ছে; যেটা এ নতুন বছর ২০১৯ সালেও বহাল থাকবে।
জানা যায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর মাঝে বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য ২০১৮ সালে চার কোটি ৪২ লাখ চার হাজার ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই তুলে দেয়া হয়েছিল। আর এর আগে গত আট বছরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০টি বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সরকার। অর্থাৎ গত ৯ বছরে ২৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার ২৯০ কপি বই দেওয়া হয় শিক্ষার্থী, যা বিশ্বেও এক বিরল দৃষ্টান্ত, অনন্য নজির।
বই উৎসব নিয়ে বৃহস্পতিবার মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মিলনায়তনে এনসিটিবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মিলিত হন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
সভায় তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামুল্য পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করতে ইতোমধ্যে সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বছরের শুরুতে প্রথম দিনে সকল পাঠ্য বই প্রদান বিশ্বে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। গত ১০ বছর ধরে বিনামূল্যে এই বই বিতরণ করা হচ্ছে। এমন উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল। এ বই প্রদানের ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য সময়মত বই পাওয়া এবং পড়াশুনা করার সুযোগ খুলে গেছে। এটা দেশে-বিদেশে সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। ঝরে পড়া অনেক কমেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের বছর হওয়ায় এ বছরটা ব্যতিক্রমী। এবছরও যাতে জানুয়ারির এক তারিখে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেয়া যায়, সেজন্য আমরা আগে থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি। সময়মত বই তৈরি, ছাপানো ও পাঠানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ছিল। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী এনসিটিবি সাফল্যের সাথে তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ কাজে কেউ বাধার সৃষ্টি করবেন না। সবাই সহযোগিতা করবেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ৩৬ কোটি বই ছাপানো ও যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়াটা একটা মহাযজ্ঞ। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় সার্বক্ষণিক এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন। সকলের প্রচেষ্টায়ই আমরা সফলভাবে আমাদের কাজ শেষ করতে পেরেছি। বাকিটুকুও সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু করেছে। আর উৎসবে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা এড়াতে ২০১৫ সালের পর থেকে শিক্ষা ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় উৎসবের আয়োজন করে আসছে।