বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবনের’ উদ্বোধন
পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্মিত এ ভবনের ফলক উন্মোচনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়সহ বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের এই আন্ষ্ঠুানিকতা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সমাবর্তনে যোগ দেন সম্মানিত অতিথি হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে মোদী এবং অতিথি হিসেবে মমতাও ছিলেন সমাবর্তন মঞ্চে।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ-শত জন্মবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মানের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ’ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কো-অপারেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’-এ তার এই আগ্রহ লিখিতরূপে স্থান পায়।
সেই ধারাবাহিকতায় ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর প্রাসঙ্গিক ধারনাপত্র তৈরি, স্থান নির্বাচন, কারিগরি নকশা প্রণয়ন, ব্যয় প্রাক্কলন তেরি ইত্যাদি সম্পন্ন করে ২০১৬ সালের শেষভাগে বাংলাদেশ ভবনের নির্মান কাজ শুরু করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ভবন নির্মানের জন্য ৪৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা অর্থায়ন করে।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এ ভবনে রয়েছে ৪৫০ আসনের প্রেক্ষাগৃহ, যা বিশ্বভারতীতে থাকা প্রেক্ষাগৃহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসভিত্তিক সংগ্রহশালার পাশাপাশি ভবনটিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ের গ্রন্থের সংগ্রহ নিয়ে একটি পাঠাগারও তৈরি করা হয়েছে। ভবনের প্রবেশদ্বারের দুই প্রান্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে।
শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশ দু’টি আলাদা দেশ হলেও আমাদের আগ্রহের জায়গা এক। আমরা একে অন্যের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এর একটি অন্যতম উদাহরণ বাংলাদেশ ভবন।
তিনি বলেন, আমরা এখানে এবং দেশের যে কোনো স্থানে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এবং ভারতের উষ্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ২৫ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ ভবন।
শুক্রবার সকালে মোদি সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট সফরসঙ্গীদের নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। মোদি পৌঁছানোর পর সৌজন্য বিনিময় হয় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে। উত্তরীয় পরিয়ে তাদের স্বাগত জানান বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেন।