সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির দায়িত্ব এখন মন্ত্রণালয়ের, ইউজিসির নয়!
রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের স্নাতক শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে আন্দোলন করছিল। সরকারের ঘোষণায় যখন কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বেঁকে বসেছেন কলেজগুলোর শিক্ষক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। এতে নতুন এক জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।
ইউজিসি জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় রূপরেখা তৈরি করে তারা মন্ত্রণালয়ে প্রদান করেছে। তাদের কাজ ছিল প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো প্রস্তুত করা, সেটি তারা সম্পন্ন করেছে। এখন এই বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান বলেন, আমাদের দায়িত্ব ছিল একটি প্রস্তাবনা ও দিকনির্দেশনা তৈরি করা। সেই কাজ আমরা সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যে একটি রূপরেখা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন পরবর্তী কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের আওতায়। আমাদের কাছে রূপরেখা চাওয়া হয়েছিল, সেই কাজটি আমরা করে দিয়েছি। বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে আন্তর্জাতিক মান নেই ৪৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। খসড়া অধ্যাদেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ; এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত কাঠামোর ভিত্তিতে গড়ে উঠছে প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়।
এর মধ্যে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ মিলিয়ে হবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সাইন্স। সরকারি বাঙলা কলেজে স্থাপিত হবে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ স্কুল, সরকারি তিতুমীর কলেজে হবে বিজনেস স্টাডিজ স্কুল এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ মিলিয়ে হবে ল অ্যান্ড জাস্টিস স্কুল।
প্রস্তাবিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে। ৪০ শতাংশ ক্লাস হবে অনলাইনে ও ৬০ শতাংশ অফলাইনে। তবে শিক্ষার্থীদের সব পরীক্ষা দিতে হবে সশরীরে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে এই খসড়া অধ্যাদেশের ওপর অংশীজনদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে।
অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশের পরপরই মূলত নড়েচড়ে বসেন সাত কলেজের শিক্ষকেরা। সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে প্রস্তাবিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোতে আপত্তি জানিয়ে একযোগে নিজ নিজ কলেজে মানববন্ধন করেন।