পৃথিবীর ৫ হাজার কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান ৯ হাজার স্যাটেলাইট নাকি আবর্জনা?

স্যাটেলাইট
মহাকাশে স্যাটেলাইট  © ফাইল ছবি

স্যাটেলাইট বা কৃত্তিম উপগ্রহ হচ্ছে এমন এক বস্তু যা যা ইচ্ছাকৃতভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। স্যাটেলাইটগুলো একটা জালের মতো পৃথিবীকে জড়িয়ে রেখেছে। মাধ্যাকর্ষণের ফলে তাদের বা পৃথিবীর এ বাঁধন থেকে মুক্তি নেই। মোবাইল টেলিফোন থেকে শুরু করে জিপিএস বা টেলিভিশন সব কিছু চলে এই স্যাটেলাইটগুলির অবদানে। কিন্তু এ স্যাটেলাইটগুলি যতটা উপকার করছে পাশাপাশি ক্ষতিও করছে।

১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক ১ উৎক্ষেপণ করে। সেই থেকে ৪০ টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯০০ টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ২০১৮ এর একটি অনুমান অনুসারে, প্রায় পাচঁ হাজারটি এখনও কক্ষপথে রয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি চালু থাকলেও, বাকিগুলো তাদের জীবনকাল অতিক্রম করে মহাকাশ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। আর এসব ধ্বংসাবশেষের প্রায় ২৮ হাজার ধাতুর টুকরো ঘুরপাক খাচ্ছে কক্ষপথে। কক্ষপথে প্রায় ৬০ ভাগই অকেজো বা মহাকাশের জঞ্জাল।

মহাকাশের এসব টুকরোগুলোকে বলা হয় ‘ডেব্রি(স)' বা ‘স্ক্র্যাপ', অর্থাৎ বাতিল বা অকেজো স্যাটেলাইটের টুকরো। মধ্যাকর্ষণের কারণে না এগুলো পৃথিবীতে আছরে পড়ছে আর না কক্ষপথ থেকে সড়ে আসছে। কিন্তু অতি ক্ষুদ্র ধাতব টুকরোগুলোও মহাকাশযানের বহিরাবরণে বড় বড় বিপজ্জনক ফুটো করে দিতে পারে।

অ্যাস্ট্রো-ফিজিসিস্ট ড. হাউকে ফিডলারের মতে, রকেটের বিভিন্ন নিঃশেষিত পর্যায় অথবা অকেজো স্যাটেলাইটগুলোকে সরাতে না পারলে, কোনো-না-কোনো সময় এই ‘মহাকাশ আবর্জনার' পরিমাণ মারাত্মক রকম বেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন: বুধবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক সেবা উদ্বোধন।

মহাকাশে সর্বাধিক উপগ্রহ পাঠানো দেশগুলির ক্ষেত্রে, ৮৫৯ টি উপগ্রহ নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, চীন ২২০ টি উপগ্রহ সহকারে দ্বিতীয় এবং রাশিয়া ১৪৬ টি উপগ্রহ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এরপরে রয়েছে ভারত (১১৮), জাপান (৭২) এবং যুক্তরাজ্য (৫২)।

যত বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে তত আবর্জনার পরিমানও বৃদ্ধি পাবে। আইএইউ এর মতো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মতে স্পেসএক্স এর স্টারলিঙ্ক এর মতো ভবিষ্যৎ উপগ্রহমন্ডলের বৃদ্ধির ফলে কক্ষপথে দূষণের পরিমাণ ব্যপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

২০২০-এ স্যাটকন ১ কর্মশালার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে বৃহত উপগ্রহমন্ডলের প্রভাব কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞানের গবেষণামূলক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং জ্যোতির্বিদ্যায় ক্ষয় প্রশমিত করার জন্য ছয়টি উপায় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

কিছু উল্লেখযোগ্য উপগ্রহ ব্যর্থতা যার ফলে দূষিত এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলি ছড়িয়ে পড়েছিল, তা হলো কসমোস ৯৫৪, কসমোস ১৪০২ এবং ট্রানজিট ৫-বিএন-৩। তবে বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশকারী উপগ্রহ থেকে দূষণ ও ধ্বংসাবশেষ হ্রাস করার জন্য বিকল্প পদার্থ হিসাবে কাঠ ব্যবহার করা যেতে পারে। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে জাপানি একটি প্রতিষ্ঠান ও দেশটির কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়।

তাদের উদ্যোগে ২০২৩ সালে তৈরি হবে বিশ্বের প্রথম কাঠের তৈরি স্যাটেলাইট। সুমিটোমা ফরেস্ট্রি নামের প্রতিষ্ঠানটির বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, তারা গাছের বৃদ্ধি ও মহাকাশে গাছের উপকরণ ব্যবহার নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। তারা চরম পরিবেশেও বিভিন্ন ধরনের গাছ নিয়ে পরীক্ষা চালাবে।

সূত্র: ইন্টানেট ও উইকিপিডিয়া


x

সর্বশেষ সংবাদ