১৭ কোটি টাকার বিনিয়োগ পেল টেন মিনিট স্কুল

টেন মিনিট স্কুল
আয়মান সাদিক  © ফাইল ছবি

দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ও শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত নাম টেন মিনিট স্কুল। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই লার্নিং অ্যাপ যা ব্যবহার করছে ৩২ লাখ শিক্ষার্থী। এই প্রাতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ১৭ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। ভারতের সেকোয়া ক্যাপিটাল নামের একটি কোম্পানি এ টাকা বিনিয়োগ করেছে। 

১৭ কোটি টাকার বিশাল এই বিনিয়োগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নানা পরিকল্পনা রয়েছে টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক আয়মান সাদিকের। টেন মিনিট স্কুলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'টাকার অভাবে এতোদিন অনেক কিছুই করতে পারতাম না। সার্ভার খরচের জন্য নিজেদের অ্যাপ থেকে লাইভে যেতে পারতাম না। এখন সেটা করা যাবে। অনেক মানুষকে নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। টিমটা এখন বড় হচ্ছে, এখন এতা ৩০০ মানুষ কাজ করে। স্বপ্ন হলো এক সময় এক হাজার মানুষ আমাদের সাথে কাজ করবে।' 

আরো পড়ুনঃ যে কারণে আটকে আছে সাত কলেজের মেধাতালিকা

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার নানা দিক নিয়ে গবেষণা হবে সেটা নিয়ে কন্টেন্ট বানানো হবে। আমাদের অ্যাপে এখন প্রায় ৩২ লাখ মানুষ আছে ইচ্ছা হলো বাংলাদেশের সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর কাছে অ্যাপটি পৌঁছে দেয়া। এই জন্য সবগুলো জেলাতে ও বিভাগীয় পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার ইচ্ছা আছে। 

আয়মান সাদিক ও আবদুল্লাহ আবইয়াদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান টেন মিনিট স্কুলের যাত্রা শুরু ২০১৫ সালে। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞানের নানা বিষয় যা একাডেমিক সিলেবাসের আওতাভুক্ত এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর দক্ষতা কিভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে ভিডিও তৈরী করে। টেন মিনিট স্কুল দেশসেরা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তৈরি প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যেকোনো বিষয়ের ২৫ হাজারের বেশি অধ্যায়ভিত্তিক ভিডিও লেকচার তৈরি করেছে। বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পেরে উপকৃত হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। এই অবদানের জন্য ২০১৮ সালে ব্রিটেনের রাণীর দ্য কুইন’স ইয়াং লিডার্স এওয়ার্ড পায় টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক।

বিনিয়োগের বিষয়ে আয়মান সাদিক বলেন, ‘শুরুতে আমরা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে এক কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছিলাম। ২০১৬ সালের আমাদের এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয় টেলিকম অপারেটর রবি। এ ছাড়া আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে স্পনসর নিতাম। এখন এসে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে যুক্ত করলাম।’

উল্লেখ্য,  সেকোয়া ক্যাপিটাল বিশ্বের শীর্ষ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির একটি। এ বিনিয়োগের বিপরীতে সেকোয়া ক্যাপিটাল টেন মিনিট স্কুলের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হবে।


x