ইউটিউবের বিকল্প বেবিটিউব বাংলাদেশী উদ্যোক্তার

প্রযুক্তি
বেবিটিউব অফিসিয়াল লোগো  © লোগে

বর্তমান পৃথিবীকে বলা হয় প্রযুক্তির পৃথিবী। সারা পৃথিবীতে এতটাই প্রযুক্তিগত উন্নতি ঘটেছে যে, এখন পৃথিবীকে বলা হয় গ্লোবাল ভিলেজ তথা বিশ্বগ্রাম। বিশ্বগ্রামে বেড়েছে যোগাযোগ, কমেছে দূরত্ব, সহজ হয়েছে তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া।

বিশ্বগ্রামের যোগাযোগটা ইন্টারনেট নির্ভর— যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ভার্চুয়াল কানেটিভিটি। এ ভার্চুয়াল কানেকটিভিটির ইতিবাচক দিক এবং নেতিবাচক দিক উভয়টিই রয়েছে। নেতিবাচক দিক থাকলেও ভার্চুয়াল জগতে পদচারণার গুরুত্ব অস্বীকার করার কোনো উপায়ও নেই আমাদের। বিশেষ করে শিক্ষা এবং বিনোদনের জন্য ইউটিউব একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং অপরিহার্য সাইটে পরিণত হয়েছে।

তবে ইউটিউবের সব কন্টেন্ট শিশু-কিশোরদের জন্য উপযুক্ত নয়— যা নিয়ে চিন্তিত সচেতন অভিভাবকগণ। এমতাবস্থায় সচেতন অভিভাবক সমাজকে নতুন খুশির বার্তা দিলেন তরুণ উদ্যোক্তা শামীম আশরাফ। তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য তৈরি করেছেন ইউটিউবের বিকল্প ‘বেবিটিউব। বেবিটিউবকে শিশু-কিশোরদের জন্য শতভাগ নিরাপদ দাবি করেন তিনি।

বেবিটিউব পরিবার

 

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বেবিটিউব নির্মাতা শামীম আশরাফ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি শিশু-কিশোরদের নিয়ে প্রায় ৪ বছর ধরে কাজ করে আসছি। কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম শিশুরা দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। জরিপ করে দেখলাম যে, এটার জন্য প্রযুক্তির একটা প্রভাব রয়েছে।

‘দক্ষিণ এশিয়ায় ইউটিউবটা তুলনামূলক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউটিউবে এমনও কন্টেন্ট আছে যা কারও জন্যই ভালো না। আর বাজে বার্তা প্রদানকারী এসব বিকৃত রুচির ভিডিও দেখে শিশুরা প্রভাবিত হচ্ছে। এরপর আমরা অভিভাবকদেরও মতামত নেই। তারা একই অভিযোগ করেছেন। ২০২০ সালের শেষের দিকে আমরা পথচলা শুরু করি এবং আমাদের সাইটে এখন অনেক কন্টেন্ট আছে।’ 

বেবিটিউব নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমাদের সাইটে ভিডিও দেওয়ার সাথে সাথেই এপ্রুভ হয় না। আমাদের মনিটরিং টিম আছে, তারা শিশু বান্ধব কন্টেন্টই অনুমোদন দেয় এবং আমাদের সাইটে এডাল্ট বিজ্ঞাপণও আমরা একসেস দেব না।’

বেবিটিউবের বিনোদনমূলক সচেতনতা প্রোগ্রাম

বেবিটিউবের পাবলিক রিলেশন বিভাগের প্রধান মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আপাতত আমরা দেশের মধ্যেই কাজ করছি, ক্যাম্পেইন করে চেষ্টা করছি জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে। আমাদের টিমে সারা দেশ থেকে ৪০ থেকে ৪৫জন সদস্য আছে এবং পরিচালক আছেন ১২জন । আমরা সরকারি কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবিদদের নিয়ে ক্যাম্পেইন করছি।’

মাইনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের সাইটে সব ধরণের অরাজনৈতিক এবং শিশুদের জন্য উপযুক্ত কন্টেন্ট, নাটক, শিশুতোষ সিনেমা, গান, গজল সবই আপলোড করা যাবে। আমাদের সাইটে ইউটিউবের চাইতেও সহজে মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটাররা বেবিটিউব থেকে আয়ও করতে পারবেন।’

‘ইউটিউব কিডস থাকতে বেবিটিউব কেন’— এ প্রসঙ্গে বেবিটিউবের হেড অফ পিআর  বলেন, ‘ইউটিউব কিডসের বাংলাদেশে কোনো একসেস নেই। ইংরেজি ভিত্তিক হওয়ায় ইউটিউব কিডস বাংলাদেশের শিশু কিশোরদের জন্য সার্বিকভাবে যথাযথ না। বেবিটিউবে বাংলা ভাষাসহ ইংরেজি ভাষার ভিডিও কন্টেন্ট রয়েছে। আর এর থেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে এটি দেশীয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট।’


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ