২৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৬

পাশের ফ্লাটের খবর জানাবে গুগল

গুগল চিহ্ন

বাসার নীচতলাতেই যে গতরাতে আগুন লেগে দু’জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন; সে খবর শুনেছেন? নাকি নিত্য দেখা হওয়া পাশের ফ্লাটের স্যুটেড-বুটেড আঙ্কেলটা কোন কোম্পানীতে চাকরি করেন; সেটাই জানা নাই। হতেই পারে। দেড়শ বছর আগে লালন সাঁই তো বলেই গেছেন, ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর/ (একঘর) সেথা পড়শী বসত করে/আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।’

মন না চাইলে পড়শীর খোঁজ নিতেও হবে না। তবে এই খোঁজ নেয়াটা যদি প্রকৃত অর্থেই ব্যক্তিগত কিংবা পরিবারের জন্য দরকারি হয়, তাহলে তো বাধ্য হয়েই নিতেই হয়। এ ক্ষেত্রে সবজান্তা ‘গুগল’ আপনার পথ সহজ করেছে। নিজের পাড়া, অফিস চত্বর বা সম্পূর্ণ অজানা-অচেনা এলাকা— দরকারি যে কোনও প্রশ্নের উত্তর পেতে ‘নেবারলি’ নামের নতুন একটি অ্যাপ আনছে গুগল। যা ইতোমধ্যে মুম্বাই, আমদাবাদ, জয়পুরের মতো শহরের এবার কলকাতাতেও চালু হচ্ছে। ধাপে ধাপে এটি গোটা বাংলাদেশেও চালু হতে পারে।

গুগল-কর্তা বেন ফহনারের জানান, এই অ্যাপ স্থানীয় ভিত্তিতে জরুরি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেতে সাহায্য করবে। তথ্য আদান-প্রদানই এর একমাত্র উদ্দেশ্য। এখানে সোশ্যাল মিডিয়ার মতো ব্যক্তিগত প্রচার, কুৎসা বা গুজব ছড়ানোর জায়গা নেই বলেই দাবি নির্মাতাদের। নেই অহরহ আপডেট আর ঘনঘন নোটিফিকেশনের বালাই। ইনবক্সে যখন-তখন উটকো উঁকিঝুঁকির ঝামেলাও নেই। কারণ, ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানোর সুযোগ নেই ওই অ্যাপে।

প্রতিদিন কত সম্পর্ক ভাঙছে, গড়েও উঠছে। কর্মব্যস্ত জীবনে সমস্যা প্রায় সব সম্পর্কেই রয়েছে

 

গুগল-কর্তা জানান, নতুন এই অ্যাপে প্রয়োজন অনুযায়ী তিনটি জায়গাকে (লোকেশন) যুক্ত করা যাবে। প্লে-স্টোর থেকে এক বার ওই অ্যাপ ফোনে ডাউনলোড করে লগ-ইন করলেই তা ব্যবহারকারীর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যাবে। তার পরে কাজ করতে শুরু করবে। এভাবেই কোনও এলাকায় ওই অ্যাপের মাধ্যমে কারা কী জানতে চাইছেন, সবই ভেসে উঠবে ফোনের পর্দায়। তার মধ্যে নিজের আগ্রহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ১৫টি পর্যন্ত বিষয় বেছে নিতে পারেন অ্যাপ ব্যবহারকারী।

সেই মতো শিক্ষা, বিনোদন, বাজার, চিকিৎসাকেন্দ্র, রেস্তরাঁ— সব কিছুরই হদিস মিলবে। তবে অ্যাপে সব কিছুই ‘পোস্ট’ করতে হবে প্রশ্ন হিসেবে। উত্তরও দেবেন আগ্রহী পড়শিরা। যাঁরা ঠিক পরামর্শ দেবেন, তাঁদের রেটিংও করবে অ্যাপ। উপকারী পড়শি হিসেবে তাঁদের তুলে ধরা হবে।

গুগলের প্রত্যাশা—  নতুন এই অ্যাপের মাধ্যমেই আশেপাশের সবার মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠবে। সমাজ হবে সৌহার্দ্য আর ভাতৃত্বময়।