১০ জুলাই ২০১৮, ১৬:৩৮

ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগ চাই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ‘জঙ্গি’ বলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামানের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা।

মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।  এ সময় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে উপাচার্যের বক্তব্য রহস্যজনক।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রাচ্যের অক্সফোর্ড।  এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত।  কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সোচ্চার এবং সব মহল যখন একে যৌক্তিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছে, ঠিক তখনই তিনি এ আন্দোলনকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তাদের জঙ্গি সংগঠনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।  যা খুবই দুঃখজনক।

কোটা সংস্কারে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছাত্রদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন উপাচার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন কথা বলতে পারেন না।  এমন বক্তব্য যিনি দিতে পারেন, তিনি শিক্ষক হতে পারেন না।  তার পদত্যাগ করা উচিত।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা যে জঙ্গি এটা তাকে প্রমাণ করতে হবে। তিনি যদি প্রমাণ না করতে পারেন আর জঙ্গি বলায় ছাত্রদের যদি কোনো ক্ষতি হয় বা র‌্যাব কাউকে মেরে ফেলে তার দায়-দায়িত্ব ভিসিকেই নিতে হবে। ছাত্রদের জঙ্গি বলে যে অসম্মান করা হয়েছে এতে কেউ ক্ষতিপূরণ চেয়ে ভিসির বিরুদ্ধে যদি মামলা করতে চায় তাকে আইনি সহায়তা দেয়া হবে।

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন-সমিতির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সিনিয়র সহ-সম্পাদক কাজী মো. জয়নুল আবেদীন, সদস্য মাহফুজ বিন ইউসুফ, ব্যারিস্টার শফিউল আলম মাহবুব, আহসান উল্লাহ, মেহেদী হাসানসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

জয়নুল আবেদীন বলেন, সরকারের হীন স্বার্থ চরিতার্থে ভিসি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সঙ্গে তুলনা করেছেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছে। যেখানে উপাচার্য এ ধরনের বক্তব্য রাখেন, সেখানে ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের মারধর করবে সেটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, ভিসির দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করা। অথচ তিনি নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সরকারের হীন স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত।

আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জয়নুল আবেদীন বলেন, সরকারকে অনুরোধ করবো অনতিবিলম্বে দাবি মেনে নিয়ে গেজেট প্রকাশ করুন। এ ছাড়া যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের মুক্তি এবং যারা ক্ষতিগ্রস্ত ও পঙ্গু হয়েছে তাদের ক্ষতিপূণের পাশাপাশি সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি এবং সাবেক দুইজন উপাচার্যের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনায় জড়িতদের সংশ্লিষ্টতা অনতিবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশের পাশাপাশি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদেরকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

প্রসঙ্গত, গত রোববার নিজ কার্যালয়ে কোটা আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, তালেবান জঙ্গিরা বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে যে রকম উসকানিমূলক ভিডিও বার্তা পাঠায়, তার অবিকল উগ্র চরমপন্থী মতাদর্শী প্রচারণামূলক ভিডিও আমি নিজে দেখেছি।’

উপাচার্য বলেন, ‘তালেবান নেতা মোল্লা ওমর ও ওসামা বিন লাদেনের মতো ভিডিও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, জঙ্গিরা যেভাবে শেষ অস্ত্র হিসেবে নারীদের ব্যবহার করে, সেভাবে কোটা আন্দোলনেও ছাত্রীদের ব্যবহার করা হচ্ছে।  তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এসব মেনে নেবে না।  ফৌজদারি অপরাধ করলে আইনের শাসন কার্যকর হতে হবে।