ঝালমুড়ি খেতে গিয়ে হেনস্তার শিকার সেই তরুণী

ঝালমুড়ি খেতে গিয়ে হেনস্তার শিকার সেই তরুণী
ঝালমুড়ি খেতে গিয়ে হেনস্তার শিকার সেই তরুণী  © সংগৃহীত

নরসিংদী রেল স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা জিন্স ও টপস পরা এক তরুণীকে নাজেহাল ও মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, বন্ধুদের নিয়ে নরসিংদীর জামালের মাখানো মুড়ি খেতে যান ওই তরুণী। তিনি পড়াশোনা করছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। নরসিংদীতে বেড়ানোর সময় তাঁরা মোট চার বন্ধু ছিলেন। এর মধ্যে দু’জনের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী।

নরসিংদী স্টেশন মাস্টার এ টি এম মুসা জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে আসা ট্রেন থেকে এই তরুণী নামেন দুই যুবকসহ। ট্রেন থেকে নেমে তারা স্টেশনে অবস্থান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে তিনি বলেন, ওই সময় এক মহিলা তাদের পোশাক দেখে বাজে ও নোংরা মন্তব্য করে। এক পর্যায়ে কয়েকজন ‘বখাটেসহ’ ওই মহিলা তাদের মারধর শুরু করে। তারা মেয়েটির পোশাক ধরে টানাটানি করে। পরে তারা নিরুপায় হয়ে আমার রুমে আশ্রয় নেয়।

ওই তরুণীর বন্ধুরা জানান, ঘটনার পর স্টেশনে দুই নারী প্রথমে তাঁদের বান্ধবীর পোশাক নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। এরপর কয়েকজন পুরুষসহ নারীরা তাঁদের মারধর করেন। শুধু তাই নয়, উল্টো তাঁদের দিয়ে হেনস্তাকারী ওই নারীদের কাছে জোরপূর্বক ক্ষমা চাওয়ানো হয়। মারধার করে ওই দুই নারীর পায়ের কাছে মাথা নিচু করে বসিয়ে রাখা হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রেলের টিকিট বুকিং দিলেন পুতিন, ঘুরলেন ঢাকা-রাজশাহী!

এদিকে, পোশাকের কারণে রেলস্টেশনে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার ওই তরুণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এখন তিনি এক ধরনের ট্রমার মধ্যে আছেন। এই ঘটনার বিচার চাইতেও ভয় পাচ্ছেন। হেনস্তার শিকার হয়ে উল্টো সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক মানসিকতায় বিশ্বাস করেন এমন গোষ্ঠীর বুলিং ও ট্রলের শিকার হন কিনা, আছেন সেই আতঙ্কেও।

নর্থ সাউথের ওই ছাত্রীর এক বন্ধু আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি জানান, অনেক দিন ধরেই প্ল্যান ছিল ঢাকা থেকে আমাদের ওই বন্ধু জামালের ঝালমুড়ি খেতে নরসিংদীতে আসবেন। ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার আরেক বন্ধুকে নিয়ে বিআরটিসির বাসে নরসিংদীতে আসেন তাঁরা।

এরপর নরসিংদী সদরের হাজীপুরে ঝালমুড়ি খেতে যাই। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় ওই দিন এক বন্ধুর বাসায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরদিন ট্রেনে তাঁরা ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। বুধবার চট্টগ্রাম মেইলে ঢাকায় ফেরার জন্য স্টেশনে তাঁরা অপেক্ষা করেন। এ সময় হঠাৎ দুই নারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর পোশাক নিয়ে অশ্নীল কথা বলতে থাকেন। বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে আশপাশের লোকজন মিলে মারধর শুরু করেন।

স্টেশন মাস্টার নাইয়ুম মিয়া জানান, অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও তিনি দাফতরিক কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ১নং প্ল্যাটফর্মে তার কক্ষের একটু দূরে হইচই ও বাক-বিতণ্ডা শুনে রুমের সামনে কলাপ্সিবল গেট খুলে দেখতে পান এক তরুণী চিৎকার করছে। হঠাৎ ওই তরুণী দৌড়ে এসে তার রুমে প্রবেশ করে। পেছন পেছন তরুণীর সঙ্গে থাকা আরও দুই তরুণও দৌড়ে এসে আশ্রয় চাইলে তিনি তাদের রুমে বসিয়ে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেন। পরে রেলওয়ে পুলিশ-জিআরপিকে ফোন দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তারা সেখানে আসে।


x