২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০২

হামলায় মা-ছেলে আহত, অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীকেই আটক!

  © সংগৃহীত

প্রতিপক্ষের হামলায় আহত স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে আদম আলী নামে এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করতে আসলে আদম আলীর ছেলে জাকির হোসেনকে সাত ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ওসির নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আদম আলীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত জাকির হোসেন উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চামারী ফতেপুর গ্রামের আদম আলীর ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে জাকির হোসেনের প্রতিবেশি (সম্পর্কে চাচা) ফেরদৌস মিয়ার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ফেরদৌস তাকে লাঠি দিয়ে পেটায়। এ ঘটনা দেখে তার মা বেগম এগিয়ে আসলে তিনি তাকেও লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তারা গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাদের জামুর্কীস্থ মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে টাঙ্গাইলে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আজ দুপুর সাড়ে এগারোটার দিকে আদম আলী ছেলে জাকির হোসেন ও স্ত্রী বেগমকে সঙ্গে নিয়ে মির্জাপুর থানায় ঘটনাটির অভিযোগ করতে আসেন।

এ সময় কর্তব্যরত পুলিশের উপপরির্শক (এসআই) ফজলুর রহমান জাকির হোসনকে আটকে রাখেন এবং বেগমসহ সকলকে গালমন্দ করে চলে যেতে বলেন। এ সময় আদম আলী, স্ত্রী বেগম ও মেয়ে আখি আক্তার অনেক কাকুতী মিনতি করলেও তিনি তাকে ছাড়েননি। পরে বিষয়টি মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান জানলে তার নির্দেশে রাত সাতটার দিকে ফজলুর রহমান তাকে ছেড়ে দেন এবং আদম আলীর কাছ থেকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র নেন। হাজতে থাকাবস্থায় জাকিরের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল এবং আটক রাখার বিষয়টি সন্ধায় মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে এসে আদম আলী ও পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

জাকির হোসেনের মা বেগম বলেন, থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তার ছেলে জাকিরকে আটক করেন। অসুস্থতার বিষয়টি জানলেও পুলিশের ওই কর্মকর্তার মায়া হয়নি।

এসআই ফজলুর রহমান জানান, মারামারির ঘটনায় তাদের প্রতিপক্ষ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। এলাকায় গিয়ে তাদের না পাওয়ার কারণে থানার পাশে একটি দোকানের পাশে পেয়ে মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে তাকে আটক করা হয়েছিল। ওসি সাহেবের নির্দেশে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।