২৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:২৮

যুক্তরাষ্ট্রে চুরির মামলায় সাবেক বিচারপতি সিনহার ভাতিজা

  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার জেল-জরিমানায় পড়ছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ভাতিজা রনজিৎ সিনহা।

জানা যায়, নিউ ইয়র্কের সেথাম সিটিতে মুনলাইট গ্যাস স্টেশনে কর্মরত থাকাবস্থায় বিপুল পরিমাণে অর্থ চুরির মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হন রনজিৎ।

গত ১৫ নভেম্বর তাকে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা কম শাস্তি পেতে দোষ স্বীকারের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে ৫ বছরের জেল এবং চুরিকৃত সমুদয় অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ।

তবে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রনজিৎ কিছুতিই নিজের দোষ স্বীকার করতে চাইছেন না। এর কারণে হিসেবে তারা বলেন, হয়েতো জেল খাটার ভয় এবং গ্রিনকার্ড বাতিল হওয়ার ভয়ে তা স্বীকার করছেন না রনজিৎ। আইনজীবীরা জানান, দোষী হলে অর্থাৎ দোষ স্বীকার করার পরপরই তাকে জেল খাটতে হবে এবং গ্রিনকার্ড বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

তবে স্বীকার না করলেও বিপদ তাকে ছাড়বেনা বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী। কলম্বিয়া কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি পোল সিজেজকা আসামি রনজিৎকে জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার না করলে চুরির দায়ে কমপক্ষে ১২ বছরের জেল খাটতে হবে তাকে।

সিলেটের কমলগঞ্জের বাসিন্দা রনজিৎ (৪৮) নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে বসবাস করতেন। ২০১৫ সালে হাডসন সিটি সংলগ্ন সেথাম সিটির ৩১০ রিজোর হিল রোডে মুনলাইট গ্যাস স্টেশনে কাজ নিয়ে সেখানে যান তিনি।

ওই গ্যাস স্টেশনটির মালিক বাংলাদেশি সাঈদ মোহাম্মদ খোকন ব্যবসায়র টাকার হিসেবে গরমিল পেয়ে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে বুঝতে পারেন যে রনজিৎ অর্থ চুরি করছেন। ২০১৬ সালে ঘটনাটি ধরার পর তিনি পুলিশে অভিযোগ করলে রনজিৎ গা ঢাকা দেন। গত সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে সাঈদ মোহাম্মদ জানান, “বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির ভাতিজা হিসেবে আমি তাকে অনেক বেশি বিশ্বাস করেছিলাম। তাকে কাজ দিয়ে তার আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। তবে তার চুরির স্বভাবে পরিবর্তন ঘটেনি।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশ পাড়ি জমিয়ে এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে থাকা অবস্থায় রনজিৎ তার সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা করেছিলেন।

সাঈদ বলেন, রনজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে ঢাকায় ‘আদম ব্যবসা’ করতেন। তাতেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রনজিতের মামলা বিষয়ে কলম্বিয়া কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি কার্যালয় থেকে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে চুরির যে অভিযোগ তা প্রমাণ হয়েছে। সে অনুযায়ী জেল তাকে খাটতেই হবে। তবে শাস্তি প্রদানের আগে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এসব বিষয়ে আলোচনা চলছে। এরপরই তাকে দণ্ড দেয়া হবে।