গৃহকর্মী পরিচয়ের আড়ালে ‘অজ্ঞান পার্টি’, বৃদ্ধার মৃত্যুর পর গ্রেপ্তার ২
রাজধানীর উত্তরায় চেতননাশাক পদার্থ খাইয়ে বৃদ্ধা আয়শা আক্তার (৬২) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্মী বিলকিস বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞান করে চুরির কথা স্বীকার করেছেন ওই নারী। রাজধানীর অন্তত ৬টি থানায় একাধিক চুরির মামলাও রয়েছে তার নামে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘মমতাজ’ ও ‘মারুফা’ নাম ব্যবহার করে গৃহকর্মী হিসেবে একটি বাসায় কাজ নেন বিলকিস। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে ও তার স্ত্রী বাইরে থাকা অবস্থায় ওই দম্পতিকে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক পদার্থ খাইয়ে অচেতন করেন তিনি। এতে আয়শা আক্তার (৬২) ঘটনাস্থলেই মারা যান। বৃদ্ধ মো. আনোয়ার হোসেন (৬৮) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি হন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ টাকা চুরি হয়। ওই স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
পিবিআইয়ের তদন্তে পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে সন্দেহভাজন নারী বাসায় প্রবেশ করেন এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পলিথিন ব্যাগসহ বের হয়ে যান। একই ধরনের অপরাধ বিশ্লেষণ করে পিবিআই সন্দেহভাজনের ছবি সংগ্রহ করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। পরে তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত হয় বিলকিস বেগম (৪০) হিসেবে।
জানা গেছে, তার পৈতৃক বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায়, স্বামীর বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহে। অভিযান চালিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় সহযোগী হিসেবে রবিউল আউয়ালকে (৫৩) গাজীপুর বাসন থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে নগদ ৬ হাজার ৩০০ টাকা, ওষুধের খালি পাতা ও একটি ছোট হাতব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, বিলকিস বেগম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি পূর্বেও ভুয়া পরিচয়ে বাসায় কাজ নিয়ে অজ্ঞান করে চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত, শেরে বাংলা নগর, ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও হাতিরঝিল থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।
মামলাটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (পিবিআই) মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত ডিআইজি (পিবিআই, ঢাকা মেট্রো উত্তর) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান। এর তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক মো. জাব্বারুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বল্প সময়ে জটিল ও ক্লু-লেস এ মামলার রহস্য উদঘাটন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ।