২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গুলি, আহত ৪

হামলায় আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন  © টিডিসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন গ্রামবাসী। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন চারজন।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন আলিম মিয়া (৪৫), নুরুল আমিন (৪০), রুপ মিয়া (৪৫) ও স্বপন মিয়া (৫০)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র মেঘনা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীভাঙন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আজ সকালে নদীর তীরবর্তী চরলাপাং মৌজায় বাল্কহেড ও ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বালু উত্তোলনে জড়িতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে গুলিবিদ্ধ হন আলিম মিয়া, নুরুল আমিন, রুপ মিয়া ও স্বপন মিয়া। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠান।

জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নাছিরাবাদ এলাকায় মেঘনা নদী থেকে এক বছরের জন্য নির্ধারিত সীমানায় বালু উত্তোলনের ইজারা দেওয়া হয়েছিল মেসার্স সামিউল ট্রেডার্সকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে সীমানার বাইরে গিয়ে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

সাবেক ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বালুমহালের সন্ত্রাসীরা আজ তাণ্ডব চালিয়ে আমাদের অনেক মানুষকে গুলিবিদ্ধ করে আহত করেছে। তারা প্রথমে স্পিডবোট থেকে গুলি ছোড়ে। পরে আরও চার-পাঁচটি বোট নিয়ে চরে নেমে গুলি ছোড়ে। পরবর্তী সময়ে তারা আমাদের বাজারে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।’

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বালুমহাল নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।