২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৯

‘ওসিগিরি করতে হলে আমাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে’, সেই বিএনপি নেতা আটক

তুষার চৌধুরীর নিজ বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ  © সংগৃহীত

হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তুষার চৌধুরীর নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম ইকবাল।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাখী রাণী দাশ বলেন, পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তুষারকে আপাতত ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মামলার বিস্তারিত জানানো হবে।

‎এদিকে তুষারকে হেফাজতে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরে তার কর্মী ও সমর্থকেরা বাহুবলের মিরপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এর আগে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নেয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুক মিয়া, যিনি ২০১৯ সালের কমিটিতে ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন, সম্প্রতি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা দাবি করেন, মাসুক মিয়া তাদের দলের কর্মী এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য থানায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

‎তখন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মখলিছুর রহমান ওসি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে মাসুক মিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান, কিন্তু ওসি এতে রাজি না হওয়ায় উপজেলা বিএনপির একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

‎পরে উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ তুষার ওসির সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় উত্তেজিত হয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কথোপকথনের সেই অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

‎ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা বিএনপি সভাপতির একটি কল আমি ধরতে পারিনি। পরে তিনি অন্য একটি নম্বর থেকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং বলেন, বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে আমাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তুষার চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি গত দুই মাসের মধ্যে কোনদিন ওসিকে ফোনও দেয়নি। আমি আমার ম্যানেজারকে গালাগাল করেছি, সেটাকে এডিট করে কেউ ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।’