শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রস্তুতি, ডিএমপির বহুস্তরীয় নিরাপত্তা
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস ও ফেব্রুয়ারির আবেগঘন প্রেক্ষাপটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যাপক জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এ উপলক্ষে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে।
শহীদ মিনারে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রুট অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সর্বসাধারণকে পলাশীর মোড় - জগন্নাথ হল ক্রসিং - শহীদ মিনার রুট ব্যবহার করে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে প্রবেশের অনুমতি থাকবে না। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর অথবা চাঁনখারপুল হয়ে প্রস্থান করতে হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য সঙ্গে না আনার অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্যদের সুযোগ দিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
এছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশপথে কিছু ট্রাফিক ডাইভারশন চালু থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অমর একুশ উদযাপন সম্ভব হবে।’