১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৯

দুই শিশু সন্তানকে বিক্রির পর স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী পলাতক

নিহত বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রী ও অভিযুক্ত স্বামী  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় পর্যায়ক্রমে দুই শিশু কন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রী সালমা আক্তারকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী নুরুল হুদার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক।

রবিবার ১৫ (ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামিজুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জরুরী সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমার মরদেহ দাফনের ঠিক আগমুহূর্তে চন্দনাইশ থানা পুলিশের একটি টিম মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ৫ বছর পূর্বে নুরুল হুদা তার বাক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কোথায় থেকে তাকে নিয়ে এসেছিলেন এ বিষয়ে এলাকাবাসী কিছুই জানেন না। বেশ কয়েক বছর আগে অভিযুক্ত নুরুল হুদা জন্মের পরে তার দুই শিশু কন্যাকে বিক্রি করে দেন। তার চার বছর বয়সী বড় মেয়ে নুরজাহান দাদীর সঙ্গে থাকে। নুরুল হুদা থাকেও অনেকবার বিক্রির চেষ্টা করেন। এ ছাড়া তিনি তার ১২ দিন বয়সী কন্যা শিশুটিকেও বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে তিনি ব্যর্থ হন। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরও করেন।

চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ৯৯৯-এর সূত্র ধরে মরদেহ দাফনের ঠিক আগমুহূর্তে ঘটনাস্থল থেকে সেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর মূল রহস্য উদঘাটন হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগে তার দুই শিশু কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’