২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২২

নিহত জামায়াত নেতার মাথার পেছনটা থেতলানো ছিল

নিহত জামায়াত নেতা   © সংগৃহীত

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জামায়াত নেতা নিহত রেজাউল করিমের মাথার পেছনটা ছিল থেতলানো।  তার নাক ও কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

এর আগে, বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জামালী জানান, নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। নিহতের মাথার পেছন দিকে থেতলানো অবস্থা দেখা গেছে। এ ছাড়াও তার কপাল এবং নাকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই শ্রীবর্দী মথুরাধি দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান জানান, হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রেজাউলের মরদেহ শ্রীবর্দী নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে বিকেল ৫টায় শ্রীবর্দী সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা এবং রাত সাড়ে ৮টায় নিজ গ্রাম গোপালখিলা স্কুলমাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ভাই হত‍্যার বিচার চেয়ে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত‍্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করছি।’

জামায়াত নেতা হাফিজ উদ্দিন জানান, সংঘর্ষ চলাকালে নিহত রেজাউল করিম বিএনপির ধাওয়া খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিলেন। তার মাথার  আঘাত এতই মারাত্নক ছিল রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য চেষ্টা করা হলে হাত ভিতরে ঢুকে পড়তে ছিল। মাথার খুলি ভেঙ্গে মস্তক বেরিয়ে গিয়ে ছিল। 

নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবর্দী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক চেয়ারে বসা নিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।

একপর্যায়ে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেয়া হলে রেজাউল করিমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।