২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৭

স্কুল ছাত্রকে নির্যাতনের মামলায় সেই ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া কারাগারে

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া  © টিডিসি সম্পাদিত

রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’র প্লে-গ্রুপের এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া স্কুল ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এই আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম আদালতে উপস্থিত না থাকায় রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে পবিত্র কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি ও ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান এখনও পলাতক রয়েছেন। 

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুর (৪) মা গত ১১ জানুয়ারি তাকে শারমিন একাডেমিতে ভর্তি করান। গত ১৮ জানুয়ারি সকালে শিশুটিকে স্কুলে রেখে আসেন তার মা। দুপুর ১টার দিকে স্কুলে গিয়ে তিনি দেখেন, তার সন্তান প্রচণ্ড ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কাঁদছে। প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটির হাত চেপে ধরে আছেন এবং তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া পাশে বসে আছেন। 

বাসায় নেওয়ার পর শিশুটি বারবার কান্না করে বলে, “মা মিস আমাকে মেরেছে, আংকেল মারছে, আমি কিছু করি নাই, আমি তোমাদের বলে দিলে গলায় পাড়া দিবে এবং মুখ সেলাই করে দিবে। আমি স্কুলে যাবো না।” 

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে শিশুর বাবা-মা স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেখানে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটিকে টেনে হিঁচড়ে অফিসে নিয়ে গিয়ে অনবরত মুখে ও গালে চড়-থাপ্পড় মারছেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া শিশুটির মুখে স্ট্যাপলার ঢুকিয়ে দেন এবং সোফার সঙ্গে চেপে ধরে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। 

নির্যাতনের ফলে শিশুটির মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং কানে কম শুনতে পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার মা। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা শারমিন ফেরদৌসী বাদী হয়ে গত ২২ জানুয়ারি পল্টন থানায় শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।

পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পলাতক প্রিন্সিপাল শারমিন জাহানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।