২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৫

অভিযানের নামে কাউকে ধরতে গেলে জনবিস্ফোরণ হবে: র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার প্রধান আসামি

প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের নামে ঢালাওভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন। নিজের কার্যালয়ে বসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এসব ক্রাইমের ফান্দে পাড়া দিয়া কেউ যদি কোনো ঝামেলা করে, এতে কিন্তু বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইয়াসিনের এই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে নিজ কার্যালয়ে তিনি ২৯ মিনিটের এই বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে ইয়াসিন নিজেকে সন্ত্রাসী হিসেবে অস্বীকার করে দাবি করেন, জঙ্গল সলিমপুরের জায়গা তাদের ক্রয় করা সম্পত্তি এবং সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করার ক্ষমতা কারও নেই। উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে তিনি সাবেক এক জেলা প্রশাসকের উদাহরণ টেনে বলেন, তিনি উচ্ছেদ করতে গিয়ে নিজেই এখন উধাও। বক্তব্যে বারবার জনবিস্ফোরণের হুমকি দিয়ে ইয়াসিন বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকেই এর দায়ভার নিতে হবে।’

র‍্যাবের অভিযানের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, গত সোমবার কেন অভিযান চালানো হয়েছে তা তদন্ত করা উচিত। একই সাথে জঙ্গল সলিমপুরের অস্থিরতার জন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক নেতা রোকন উদ্দিনকে দায়ী করেন তিনি।

আরও পড়ুন: রাবির ‘সি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

গত সোমবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এই ঘটনায় গত বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করে র‍্যাব। মোহাম্মদ ইয়াসিন ও নুরুল হক ভাণ্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এজাহার অনুযায়ী, ইয়াসিনের নির্দেশেই রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র‍্যাবের ওপর হামলা চালানো হয় এবং চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছিল, যাদের পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী সংলগ্ন ৩ হাজার ১০০ একরের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। গত চার দশকে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি ও প্লট-বাণিজ্য। এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী সশস্ত্র পাহারায় থাকে। এর আগেও এখানে সংঘর্ষে নিহত হওয়া এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, এলাকায় ইয়াসিন ও রোকন উদ্দিনের দুটি পক্ষ সক্রিয়। ইয়াসিন আগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হওয়ার দাবি করেন। যদিও আসলাম চৌধুরী এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, জঙ্গল সলিমপুরে তার কোনো অনুসারী নেই এবং এসকল ঘটনার সাথে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

হুমকির বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইয়াসিন তার কার্যালয়ে বসে এই বক্তব্য দিয়েছেন। তাকেসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’ অন্যদিকে র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘অভিযানের কোনো ত্রুটি ছিল কি না তা অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।’