২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৪

শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ, ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

শাহজালাল ফার্টিলাইজা কোম্পানি লিমিটেড  © সংগৃহীত

সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের আত্মসাৎকৃত অর্থে অর্জিত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির সাবেক হিসাবরক্ষক খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের নামে থাকা ৩১ কোটি ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮৪২ টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর দায়রা আদালত।

বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে আত্মসাৎকৃত অর্থে মুগদা ও উত্তরার কাওলা এলাকায় ক্রয়কৃত ২৩.৫ কাঠা জমি; ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় ৩০৩.২ শতাংশ জমি; সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর, বনশ্রী, বাসাবো ও উত্তরার কাওলা এলাকায় অবস্থিত ১৮টি ফ্ল্যাট; মুগদা, আফতাবনগর ও উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে ৩৯২.৭৩২৩ অযুতাংশ জমির ১১টি শেয়ার। এগুলোর পাশাপাশি আত্মসাৎকৃত অর্থে অর্জিত ২১টি মিনিবাস, ২টি হায়েস গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত ৩০ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকাও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 

খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীন শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের সাবেক হিসাব রক্ষক ও হিসাব বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে। 

আত্মসাৎকৃত অর্থ ব্যবহার করে তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট, যানবাহন ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন।

শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিআইডি বাদী হয়ে মতিঝিল (ডিএমপি) থানার মামলা নং-২৭, তারিখ-২৬/০৪/২০২৩ খ্রি., ধারা- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) রুজু করে। মামলায় খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে আত্মসাৎকৃত অর্থের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এসব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ প্রদান করেন।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সিআইডি এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত যে কাউকে আইনের আওতায় আনতে সিআইডির অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।