টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু জীবিত আছে, নেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেলে
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ওপার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত শিশুটি মারা যায়নি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিশুটির চাচা মৌলভি শওকত।
আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার পরপরই শিশুটি মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানালেও পরে সেই তথ্য সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
দুপুর ২টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল জানান, শিশুটি নিহত হয়নি। এমন খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রথমে মারা যাওয়ার কথা শোনা গেলেও তা সঠিক নয়। তাকে দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও জীবিত ছিল। এখন পর্যন্ত সে বেঁচে আছে কি না, সে তথ্য নেই তবে তখন পর্যন্ত জীবিত ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরিস্থিতি কী হবে, তা বলা যাচ্ছে না।’
আহত শিশুটির দাদা আবুল হাসেম জানান, দুপুর ১২টার পর উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতাল থেকে তার দুই ছেলে শিশুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ শিশুটির নাম আফনান (১২)। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল এলাকার জসিম উদ্দীনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, সকালে আফনান বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় হঠাৎ সীমান্তের ওপার থেকে আসা একটি গুলি তাকে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সীমান্ত পরিস্থিতি ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।