১৩ মে ২০১৯, ১৩:৪৩

এ যেন আরেক নুসরাতকাণ্ড!

  © প্রতীকী ছবি

পিতা ও এক নিকতাত্মীয় মিলে ১০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দিয়েছিল তরুণীকে! পরে যে ব্যক্তি তাকে কিনেছিল সে ও তার বন্ধুরা মিলে গণধর্ষণ করে তাকে। এর বিচার চাইতে পুলিশের কাছে গিয়েও লাভ হয়নি। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি, শেষমেষ গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

তবে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও পুড়ে গেছে শরীরের শতকরা ৮০শতাাংশ। যেন আরেক নুসরাতকাণ্ড। ফেনির নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে অপরাধীচক্র। আর ভারতের উত্তর প্রদেশে ওই তরুণী নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। খবর: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

নুসরাতের বিষয়েও পুলিশ একই ধরণের অবহেলা করেছিল। একইভাবে ভারতের ওই তরুণীরও পুলিশ অবহেলায় করায় তার শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। এখন তার অবস্থা শঙ্কটজনক। ওই তরুণী উত্তর প্রদেশের হাপুরের বাসিন্দা। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তার পিতা তাকে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আর তাকে যে ব্যক্তি কিনেছিল, সে আরো অনেকের কাছে ঋণী ছিলেন। যে কারণেও ওই তরুণীকে ঋণদাতাদের কাছে পাঠান ওই ব্যক্তি। সেখানে বার বার ধর্ষণ করায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তরুণী। একপর্যায়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

এ ব্যাপারে হাপুর পুলিশের এসপি যশবীর সিং বলেছেন, এ ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। দিল্লি কমিশন ফর ওমেন (ডিসিডব্লিউ)-এর চেয়ারপারসন স্বাতী মালিওয়াল মামলাটি দেখছেন। ওই যুবতীর জন্য সুবিচার চেয়ে তিনি চিঠি লিখেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে।

ওই চিঠিতে লিখেছেন, গণধর্ষণের শিকার নির্যাতিতা উত্তর প্রদেশের হাপুরে পুলিশের হাতে অকল্পনীয় হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি এফআইআর করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পুলিশের এই অবহেলা ও লজ্জাজনক। এ ধরণের আচরণের কারণে যৌন নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

নির্যাতিত ওই যুবতীর একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে তাকে বলতে শোনা যায়, পুলিশ কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। তারা অর্থের বিনিময়ে অভিযোগকে ধামাচাপা দিয়েছে।

নির্যাতিত ওই নারী অভিযোগ করেছেন, অভিযোগ নিয়ে হাপুর এসপি সহ পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। গত ২৮ এপ্রিল নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

এজন্য ডিসিডব্লিউ চেয়ারপারসন স্বাতী মালিওয়াল উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হাপুর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

জবাবে বাবুগড় পুলিশ স্টেশনের স্টেশন হাউস অফিসার রাজেশ কুমার ভারতী বলেছেন, ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।