০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪:১২

আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে সুবর্ণচরে মা ও পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

  © প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নে ঘরের সিঁধ কেটে ঢুকে মা ও পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া শিশু মেয়েকে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারীর মা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ দুজনকে তাঁর মেয়ে (৩২) ও নাতনি (১২) চিনতে পেরেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাউকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে চরকাজী মোখলেছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের ঘর থেকে স্বর্ণের গয়না ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ভুক্তভোগী নারী তিন সন্তানের জননী। আর নির্যাতনের শিকার শিশুটি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে হাতিয়া থেকে এসে চরকাজী মোখলেছ গ্রামে নতুন বাড়ি করেন ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী। তিনি মাঝে মাঝে ৩ থেকে চারদিনের জন্য দিনমজুরের কাজ করতে বাড়ির বাইরে যেতেন। এসময় সন্তানদের নিয়ে একাই বাড়িতে থাকতেন ওই গৃহবধূ।

আরও জানা যায়, গত দুই দিন আগে কাজের সন্ধানে ওই নারীর স্বামী বাইরে যান। তিন মেয়েকে নিয়ে তিনি (ভুক্তভোগী) বাড়িতেই ছিলেন। সোমবার রাত ২টার দিকে ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে একজন। পরে সে ঘরের দরজা খুলে দিলে আরও দুইজন ভেতরে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে দুইজন গৃহবধূকে এবং একজন তার শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে গৃহবধূর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ঘরে থাকা স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে চলে যায়। গভীর রাতে শিশুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গৃহবধূর বাঁধন খুলে দেয়।

নির্যাতনের শিকার নারীর পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে দুজনকে নারী ও তাঁর মেয়ে চিনতে পেরেছেন, তাঁদের একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা। ধর্ষণের অভিযোগটি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। ওই নারীকে কেউ ‘কথা শিখিয়ে দিয়েছে’ বলে মনে করেন তিনি।

চরজব্বার থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পোঁছায়। সকালে ভুক্তভোগীদের থানায় আনা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।