০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩০

শিশু গৃহকর্মীকে ফুটন্ত পানি ঢেলে নির্যাতন, সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রী আটক

তাহমিনা তুহিন  © ফাইল ফটো

কুমিল্লায় ১২ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে গরম পানি ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক এক অধ্যক্ষের স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মেয়েটি পাশের একটি হোস্টেলে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে রাত ৯ টার দিকে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। 

ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামে। সে কুমিল্লা নগরী লাগোয়া ধর্মপুর পূর্ব দৌলতপুর এলাকার আবু তাহেরের বাসার গৃহকর্মী। আবু তাহের ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা তুহিন।

হাসপাতালে ভর্তি ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, আবু তাহেরের মেয়ে ফাহমিদা তাহের তিমুর ঢাকার বাসায় এবং আবু তাহেরের কুমিল্লার বাসায় চার বছর ধরে কাজ করছে সে। কোনো কাজে দেরি হলে তাহেরের স্ত্রী তাহমিনা ও মেয়ে তিমু জালি বেত দিয়ে তাকে মারধর করে এবং শরীরে গরম পানি ঢালে। 

“হাতে আঘাত ও পায়ে ঝলসে যাওয়ার ক্ষত নিয়ে চিকিৎসাধীন শিশুটি আরও জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পর তাহমিনা তার শরীরে গরম পানি ঢালতে চাইলে জীবন রক্ষায় সে দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। পরে পাশেই ওই কলেজের মেয়েদের হোস্টেলে গিয়ে আশ্রয় নেয় সে।”

ওই হোস্টেলের এক মেয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা উপরে চিৎকার চেচামেচি শুনি। পরে ছোট একটি মেয়ে আমাদের রুমে প্রবেশ করে আশ্রয় চায়। দেখি তার পা ঝলসে যাওয়া। পরে আমরা পুলিশে জানাই।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, মেয়েটি আমাদের আত্মীয়ের মধ্যে। আমার মেয়ের শ্বশুরবাড়ি দেবিদ্বারে তার বাড়ি। আমি ও আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ। কিছুদিন আগেও আইসিইউতে ছিলাম।

”বুধবার ঘটনার সময় আমি বাইরে ছিলাম। আমার স্ত্রী জানিয়েছেন- তাকে মারধর করেননি। পাপোশে পা পিছলে পড়ে তার পায়ে একটু গরম পানি পড়েছে। পাশের হোস্টেলের একটি মেয়ে বিষয়টিকে বড় করেছে।” 

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে গেছে। তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।