প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি বাণিজ্য

বদলী
ক্লাস নিচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষক  © ফাইল ছবি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি ও গোপন পাসওয়ার্ড এবং শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নামে অর্থ লেনদেন রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, বদলি নীতিমালা ৩ এর ৬ নম্বর শর্তে দূরত্ব, লিঙ্গ, জ্যেষ্ঠতা বিবেচনার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে জ্যেষ্ঠদের বঞ্চিত করে কনিষ্ঠদের বদলির আদেশ জারি করা হয়। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এই উপজেলার শিক্ষকদের মধ্যে।

শিক্ষকদের দাবি, চিহ্নিত দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন যাচাই-বাছাই না করে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হালিম। লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে শিক্ষকদের বদলির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কি কারণে আবেদন বাতিল করা হয়েছে তা প্রকাশ না করে অনলাইন পোর্টাল থেকে সহকারী শিক্ষকদের লগইন করার আপসনটি তুলে নেওয়া হয়। যার ফলে আবেদনকারী শিক্ষকরা আবেদন বাতিলের উপযুক্ত কারণ জানতে পারা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে অথবা অন্য কোন অজুহাতে কারণ দর্শানো হবে বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৪-৫ হাজার করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

কারণ দর্শানোর বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, শোকজ করলে অফিসে কাগজ থাকবে আমি কোন কাগজ পাইনি তবে এরকম কথা আমিও শুনেছি। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরীর দাবি শোকজ করেছি কাগজ দেইনি। এখন দেব। এসব নিয়ে লেখালেখি করলে ইজ্জত হ্যাম্বার হয়। শিক্ষক বদলি, অনিয়ম, পাসওয়ার্ড প্রদানে টাকা নেওয়ার বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হালিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ‘শিক্ষক নেতাদের মধ্যে দুটি গ্রুপ রয়েছে, এরা আমার বিরুদ্ধে কথা ছড়াচ্ছে, অনলাইন বদলিতে আবেদন করতে হয় অনলাইনে, সফটওয়ারের মাধ্যমে সব কাজ করা হয়, আমার কোনো হাত নেই’।

এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।


সর্বশেষ সংবাদ