২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৩:২৯

পদের লোভ দেখিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন আওয়ামী লীগ নেতা

  © সংগৃহীত

পদ-পদবির লোভ দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান মাস্টারের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক ছাত্রী। গতকাল বুধবার গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর শিববাড়ী এলাকার এক রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। 

এসময় ওই ছাত্রী বলেন, মহানগরীর কোনাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান মাস্টার আমাকে যুব মহিলা লীগের পদ-পদবির প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। এরপর থেকে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান মাস্টারের দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার এবং তাঁকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। 

এর আগে গত মাসে কোনাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে আব্দুর রহমান মাস্টারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিও ভাইরালের পর সম্মেলন শেষ হলেও এখনো কোনাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। 

ভিডিও প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, কোনাবাড়ী যুব মহিলা লীগের কমিটিতে নেওয়া হবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও করেন। কিন্তু আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। যেহেতু তিনি তাঁর কমিটমেন্ট রক্ষা করেননি, তাই আমি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আপনারা যাঁরা ভিডিওটি দেখেছেন, তাতে দেখবেন আমি স্বেচ্ছায় তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক করতে চাইনি। তিনি জোর-জবরদস্তি করে আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওই ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আব্দুর রহমান মাস্টার আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে আছেন। অনেক বড় নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে। তিনি আমার মতো অনেক মেয়েকে বিভিন্ন কমিটিতে জায়গা করে দেবেন, পদ দেবেন—এসব লোভ দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতেন। ওনার কথা না শুনলে আমাদের ওনার যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, সেখানে ডেকে নিয়ে জোর-জবরদস্তি করতেন, শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করতেন। তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে একটি পাঁচতলা বাসা আছে, সেখানে উনি আমার মতো যারা আছে, তাদের নিয়ে যান, কমিটির লোভ দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। এমনকি উত্তরায় তাঁর যে বাসা আছে, সেখানেও মেয়েদের নিয়ে যান, আমারও যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমি যাইনি।

আমার পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, রাজনীতিতে আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমি আমার পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করতাম। ওই সব প্রোগ্রামে যেতে যেতে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তিনি আমাকে বলতেন, তুমি তো দেখি অনেক ভালো, তুমি তো অনেক অ্যাকটিভ, আমি যদি তোমাকে কোনো পদে নিই, কোনো কমিটিতে রাখি, তাহলে তো তোমার আপত্তি নেই? তোমার তো কোনো সমস্যা নেই? সেই সূত্রে তিনি আমার ফোন নম্বর নেন, আমার সঙ্গে কথা বলেন। তারপর থেকে কোনো প্রোগ্রামে আমাকে ডাকলে আমি যেতাম। সেভাবেই ওনার সঙ্গে সম্পর্ক হয়ে ওঠে। যেহেতু আমারও রাজনীতি ভালো লাগে আর রাজনীতিতে আমার আগ্রহ আছে, তাই আমি ওনার কথামতো চলতাম। 

কোনাবাড়ী থানায় জিডি নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি কোনাবাড়ী থানায় জিডি করতে গিয়েছি, কিন্তু পুলিশ ওই মাস্টারের নাম শোনার পর আমার জিডি নেয়নি।

ভিডিও ভাইরালের আগে ১০-১৫ বার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার অবাক লাগে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় তিনি কীভাবে এসব কাজ করেন। আর শেষে যে ভিডিও আমার ভাইরাল হয়েছে, তাতে আপনারা দেখবেন, যখন আমাকে প্রস্তাব দেয় তখন আমি না বলছিলাম। আমি বলেছিলাম ভাইয়া আমি পারব না, আমি অসুস্থ আমি বাসায় চলে যাব। কিন্তু তিনি আমার কথা শোনেননি। তিনি অনেক বাজে ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করেন এবং আমাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। ওই ভিডিওর ভেতরে সবকিছু আছে, আপনারা দয়া করে শুনে নেবেন।

ভিডিওতে ছাত্রীকে স্পষ্ট দেখা যায়নি, তাহলে কি মাস্টারকে ফাঁসানোর জন্য এই ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, না, মাস্টারকে ফাঁসানোর জন্য এটি করা হয়নি। আমি মাস্টারের সামনে গিয়ে কথা বলতে পারব। উনি রাজনীতি নিয়ে যে একটা বাজে খেলা খেলছেন, আমাকে কমিটিতে রাখার কথা ছিল এবং উনি আমাকে বলেছিলেন, যখন যুব মহিলা লীগের কমিটি দেওয়া হবে, তখন সেখানে তোমাকে রাখা হবে। কিন্তু সম্প্রতি যুব মহিলা লীগের কমিটি সম্মেলন হলো, কমিটি দেওয়া হলো, তখন আমাকে রাখার কথা ছিল। তিনি আমাকে রাখেননি। তিনি আমাকে বলেন আমি ছোট। আমি যদি ছোট হই, তাহলে আমার সঙ্গে কেন এমন অন্যায় করা হলো?

কোনাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান মাস্টার এটিকে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দাবি করেন।