০৭ নভেম্বর ২০২২, ২৩:১২

ছাত্রকে বলাৎকার, মাদ্রাসায় ঢুকে ৪ হুজুরকে পেটালেন অভিভাবকেরা

মারধরের শিকার এক ‍হুজুর  © সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক হাফেজিয়া মাদ্রাসাছাত্রকে (১২) যৌন নিপীড়নের (বলাৎকার) অভিযোগে ওই মাদ্রাসার ৪ হুজুরকে (শিক্ষক) পেটানো হয়েছে। তাদের মারধর করেছেন ওই মাদ্রাসাছাত্রের বাবা ও চাচা। আজ সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে কুমারখালী পৌরসভার মোহাম্মদীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায়।

মারধরের শিকার মাদ্রাসার শিক্ষকেরা হলেন— প্রধান শিক্ষক আলহাজ জুবায়ের, সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মোতালেবুর রহমান ও হাফেজ মো. মিজবাউদ্দিন। তাঁদের মধ্যে মিজবাউদ্দিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তবে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা যৌন নিপীড়নের বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, মাদ্রাসাটি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। অহেতুক ওই ছাত্রের বাবা ও চাচা মাদ্রাসায় ঢুকে সকল শিক্ষককে মারপিট শুরু করেন।

মাদ্রাসাছাত্রের বাবা বলেন, দুদিন আগে আমার ছেলেকে হুজুর মিজবাউদ্দিন বলাৎকার করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে ছেলে বাড়ি এসে ঘটনাটি জানালে ক্ষোভে উত্তেজিত হয়ে হুজুরকে মারপিট করেছি। এ বিষয়ে থানায় মামলা করব।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আলহাজ জুবায়ের বলেন, ওই ছাত্র পড়ে চার তলায়। আর পাঁচ তলার শিক্ষার্থীদের মারধর করত। আমরা নিষেধ করলেই ওই ছাত্র বাড়িতে বলে দিত আর বাবার ভয় দেখাত। আজ সকালেও অন্যান্য ছাত্রদের মারধর করে সে। তাকে নিষেধ করা হলে হুমকি দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। এরপর বিকেলে ওর বাবা ও চাচা এসে মারপিট শুরু করে দেন।

সহকারী শিক্ষক মিজবাউদ্দিন বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেইনি। অথচ মিথ্যে অজুহাতে আমাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন। বিষয়টি পরিচালনা কমিটিকে জানানো হয়েছে।

মাদ্রাসাটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুর রহিম বলেন, ছেলেটি সকালে শিক্ষকদের মারপিটের হুমকি দিয়েছিল। আর বিকেলেই বাপ-চাচা দিয়ে মারপিট করিয়েছে। মাদ্রাসায় কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল (মঙ্গলবার) কমিটির সবার সঙ্গে বসা হবে। কী করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।