১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪০

এখনই দেশে ফিরছেন না সাকিব

সাকিব আল হাসান   © সংগৃহীত

গেল জানুয়ারিতেই সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরাকে ঘিরে আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়ে ওঠে। দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানামুখী বিশ্লেষণ, মতামত ও জল্পনা-কল্পনা। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে আলোচনা কিছুটা স্তিমিত থাকলেও পুরোপুরি থামেনি প্রসঙ্গটি। ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট মহল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম; সবখানেই প্রশ্ন ছিল একটাই: সাকিব কি আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরবেন?

এমন সময়েই দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ফের আলোচনায় সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা প্রসঙ্গ। কারণ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গনের কিছু সিদ্ধান্তেও প্রভাব পড়তে পারে, যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউই সরাসরি কিছু বলেননি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস আগে সাকিব প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে টি-স্পোর্টসকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘সেটা (জাতীয় দলে খেলা) সাকিবের ফর্মের ওপর নির্ভর করবে। তখন সে ক্রিকেটে থাকবে কি না তার ওপর নির্ভর করবে। আমি কখনোই খেলাধুলার মধ্যে রাজনীতিকে আনতে চাইনি এবং বিশ্বাসও করি না। সুতরাং যে যোগ্য, সে অবশ্যই আসবে (খেলবে)।’

সে সময়ে তার এই মন্তব্যকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। অন্তত রাজনৈতিক কারণে কোনো খেলোয়াড়কে দলে রাখা বা বাদ দেওয়ার পক্ষে তিনি নন, এমন বার্তাই পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকেও সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর বিষয়ে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বোর্ডের ভেতরে-বাইরে তার ফিটনেস, বর্তমান ফর্ম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবেন সাকিব। সেদিন সাবেক বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার দেশে ফিরলে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। তবে সূত্র বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরছেন না সাকিব।

উল্লেখ্য, গত বছরও একবার দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন সাকিব। সে সময় মাঝপথেই তাকে থামতে হয়েছিল। নানা জটিলতা ও পরিস্থিতির কারণে সেই ফেরা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন কানপুরে। খেলার পাশাপাশি সাকিব আল হাসান জড়িয়ে পড়েছিলেন রাজনীতিতে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় কানাডায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টিতে খেলছিলেন সাকিব। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হওয়ায় আর দেশে ফিরেননি এই ক্রিকেটার। 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিদায়ী টেস্ট খেলার কথা থাকলেও দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে। সর্বশেষ দুবাই থেকে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং দেশে ফিরেই চেনা দর্শকদের সামনে বিদায় নিতে চান।