নির্ধারিত সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ গড়ানো নিয়ে শঙ্কা
নানান নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায় বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়া ঘিরে প্রথমে মাঠের বাইরের নানা ইস্যু তৈরি হয়েছিল। আলোচনা-সমালোচনা, অনিশ্চয়তা আর কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে সেই বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচ আজ (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হওয়ার কথা। তবে বেরসিক বৃষ্টি আবারও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে হাইভোল্টেজ এই লড়াইয়ের সামনে।
যদিও কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃষ্টির আশঙ্কা আগেই ছিল। এবার শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া বিভাগ খেত্তামারা এলাকার যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচের টস হওয়ার কথা, আর ঠিক সেই সময়েই প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ধারাবাহিক নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে প্রায় ৫ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। ৭টা ১০ মিনিটের পর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে ৩ দশমিক ৮ মিলিমিটারে নামার পূর্বাভাস রয়েছে।
এই পূর্বাভাস সত্যি হলে ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে শুরু না-ও হতে পারে। এমনকি খেলা আংশিকভাবে কাটা পড়া বা পরিত্যক্ত হওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মূল বিষয়টি নির্ভর করবে বৃষ্টি থামার পর কত দ্রুত মাঠ খেলার উপযোগী করা যায় তার ওপরই। এ ছাড়া দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেও ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ম্যাচ দেরিতে শুরু হতে পারে কিংবা সম্পন্ন হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি লাগতে পারে, এমন প্রস্তুতি নিয়েই আসতে হবে সমর্থকদের।
তবে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা মোটেই উন্মাদনায় ভাটা ফেলতে পারেনি। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, বাড়তি আবেগ। কলম্বোগামী বিমানের টিকিটের দামও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। হোটেল ভাড়াও আকাশছোঁয়া। শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কলম্বোয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও ততক্ষণে দুই দলই নিজেদের অনুশীলন সেরে নেয়। গ্রুপপর্বে নিজেদের আগের দুই ম্যাচ জিতে ভারত ও পাকিস্তান দুই দলই ৪ পয়েন্ট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে। নেট রানরেটে শীর্ষে ভারত, পাকিস্তানের অবস্থান দুই নম্বরে। আজকের ম্যাচটি যদি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়, তাহলে উভয় দল ১ পয়েন্ট করে পাবে। সেক্ষেত্রে সুপার এইটে ওঠা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। কারণ, সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে পিছিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস গ্রুপপর্ব শেষে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট পেতে পারে, কিন্তু রানরেটের হিসাব বড় ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে ম্যাচ আয়োজকদের দিক থেকেও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ৬০ মিনিট সময় সংরক্ষিত রয়েছে। সবচেয়ে বড় ভরসা প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কলম্বোর ভারী বর্ষণ মাথায় রেখেই এই ভেন্যুকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে যেখানে শুধু পিচ ঢেকে রাখা হয়, সেখানে এখানে পুরো মাঠ ঢাকার মতো পর্যাপ্ত কভার রয়েছে। ফলে আউটফিল্ড দ্রুত পানি শোষণ করে কাদাময় হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
গ্রাউন্ড স্টাফদের বিশেষ কৌশলও রয়েছে। তারা এক কভার থেকে আরেক কভারের দিকে পানি ঠেলে দেন, যতক্ষণ না তা সীমানা ঘেঁষা ড্রেনেজ লাইনে গিয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ‘সুপার সপার’ ব্যবহারের তুলনায় এই পদ্ধতি দ্রুত ও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ভারী বৃষ্টি থামার ৪৫ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই মাঠ আবার খেলার উপযোগী করে তোলা সম্ভব হয়।