০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে কিনা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে পিসিবি

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি ও পাকিস্তান দল  © টিডিসি ফটো

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে বৈঠকের পর পাকিস্তানের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা এসেছে। 

বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে। পিসিবির ভেতরেও এখন ম্যাচ খেলার পক্ষে মত জোরালো হচ্ছে, যদিও আইসিসির কাছে তিনটি শর্ত রেখেই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে পাকিস্তান।

রবিবার আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা এবং সহযোগী সদস্য দেশের প্রতিনিধি মুবাশির উসমানি পাকিস্তানে পৌঁছান। লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও। বৈঠকটি দীর্ঘ সময় ধরে চলে। আইসিসির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন মহসিন নকভি।

‘এনডিটিভি’ জানিয়েছে, বৈঠকে পিসিবির ভেতরেই মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েকজন বোর্ড কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ চান। তবে নকভি এখনো আগের দাবিতে অনড় রয়েছেন। বৈঠকে আইসিসির প্রতিনিধিরা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান যদি ভারত ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে তাদের কী ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি সদস্যপদ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়।

এই ইস্যুতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে। ম্যাচটি না হলে শ্রীলঙ্কা বোর্ড বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কা বোর্ডের পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানের মাটিতে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের ওপর জঙ্গি হামলার পরও তারা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এখন সংকটকালে পাকিস্তানের দায়িত্ব পালনের সময় এসেছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এই অবস্থায় আইসিসির কাছে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চেয়েছেন মহসিন নকভি। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আরও এক দফা আলোচনার পরই পিসিবি তাদের অবস্থান জানাবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর আগে নকভি একটি সংবাদ সম্মেলনও করতে পারেন, যেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে।

‘এনডিটিভি’ জানায়, ভারত ম্যাচ খেলতে আইসিসির কাছে তিনটি শর্ত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, যেগুলো সবই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। প্রথমত, বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণ বাড়াতে হবে, অর্থাৎ আইসিসি থেকে বাংলাদেশ যে লভ্যাংশ পায়, তা বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশকে ‘পার্টিসিপেশন ফি’ বা অংশগ্রহণ ফি দিতে হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আইসিসির কোনো বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা সম্পর্কে আইসিসিকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।

তবে ‘ক্রিকবাজ়’ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যে তিনটি শর্ত দিয়েছে, সেগুলো মূলত নিজেদের স্বার্থে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—আইসিসি থেকে পিসিবি যে লভ্যাংশ পায়, তা বাড়ানো, ২০০৮ সাল থেকে বন্ধ থাকা ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আবার চালু করা এবং এশিয়া কাপে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দনে বাধ্য করা।

এই দুই ধরনের দাবির বাস্তবতা নিয়েও আলোচনা চলছে। ‘এনডিটিভি’ যে শর্তগুলোর কথা জানিয়েছে, সেগুলো মানা আইসিসির পক্ষে তুলনামূলক সহজ, কারণ সেগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং অন্য কোনো দেশের সরাসরি আপত্তির জায়গা নেই। কিন্তু ‘ক্রিকবাজ়’ উল্লিখিত শর্তগুলোর মধ্যে লভ্যাংশ বাড়ানো ছাড়া বাকি দুইটি আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত নয়। ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা করমর্দনের বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত, যা মেনে চলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেখানে আইসিসির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এক সপ্তাহ আগে ভারত ম্যাচ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যে কঠোর অবস্থানে ছিল, সেখানে কিছুটা হলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আইসিসির পাশাপাশি সম্প্রচারকারী সংস্থার চাপও বাড়ছে পিসিবির ওপর। এই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। সেই কারণেই এখন হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত নকভিরা। শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ভাগ্য কোন পথে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।