বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণসহ ৩ দাবি পাকিস্তানের, জবাবে যা জানাল আইসিসি
ভারতে বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণসহ তিন দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। গতকাল লাহোরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, পিসিবি ও বিসিবির ৪ ঘণ্টা ব্যাপী এক আলোচনাসভায় এ দাবি জানানো হয় বলে জানিয়েছে জিও টিভি। এই বৈঠকে অচলাবস্থা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে বৈঠকের পর সমঝোতার পৌঁছানোর একটি আভাস মিলেছে।
ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তানের বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করতে রোববার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। চার ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক শেষে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পিসিবি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল উভয় পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আইসিসি বাংলাদেশকে আলাদা করে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়নি। তবে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, আইসিসির মোট আয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ তাদের পূর্ণ শেয়ার নিয়মিতভাবেই পাবে।
একই সঙ্গে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা পিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা চাইলে বিষয়টি আইসিসি সালিশি কমিটির কাছে নিতে পারে অথবা আইসিসি বোর্ড সভায় উত্থাপন করতে পারে। তিনি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
এই সংকটের সূত্রপাত হয় পাকিস্তান সরকারের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া এক ঘোষণার মাধ্যমে, যেখানে জানানো হয় যে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে 'মেন ইন গ্রিন'রা মাঠে নামবে না। পরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই বয়কটকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে একে সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ বিসিবি করলেও আইসিসি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় তাকে সরানো হয়েছিল।
এদিকে মেম্বারস পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী আইসিসি পিসিবির কাছে জানতে চেয়েছে, এই 'ফোর্স মাজিউর' পরিস্থিতিতে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানায়, টুর্নামেন্ট শুরুর ১০ দিনেরও কম সময় আগে পিসিবি আইসিসিকে ইমেইল করে জানায় যে, সরকারের নির্দেশেই তারা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার পর একটি সমঝোতার ফর্মুলা তৈরি হয়েছে। সেই ফর্মুলা অনুযায়ী বিসিবিকে তিনটি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রথমত, বিশ্বকাপে না খেলতে পারায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ক্ষতিপূরণ পাবে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বকাপের লভ্যাংশ থেকে তাদের অংশ নিশ্চিত করা হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে ভারতে কোনো টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশকে হাইব্রিড মডেলে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
আইসিসি ইতিমধ্যেই 'ফোর্স মাজিউর' প্রয়োগের শর্ত, টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণের মানদণ্ড এবং এর ক্রীড়াগত, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রভাব সম্পর্কে পিসিবিকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না হলে আইসিসিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ গুরুতর বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করলে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতাও সংস্থাটির রয়েছে।
অন্যদিকে পিসিবির ধারণা, বিষয়টি যদি আইনি লড়াই পর্যন্ত গড়ায়, তবে তাদের অবস্থান দুর্বল নয়। তারা পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে পুরোনো একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সংক্রান্ত বিরোধের উদাহরণ টানছে, যা একসময় আইসিসি ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে গিয়েছিল। সেই বিরোধের সূত্র ছিল ২০১৪ সালের একটি সমঝোতা স্মারক, যেখানে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার কথা থাকলেও বিসিসিআই তা বাস্তবায়ন করেনি। যদিও সে সময় ক্ষতিপূরণ দাবির মামলায় পিসিবি হেরে গিয়েছিল, তবে তাদের যুক্তি—ভারত সরকারের অনুমতি না থাকায় বিসিসিআই খেলতে পারেনি—এই নজির বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পক্ষে যেতে পারে।
সংবাদসূত্র: এনডিটিভি