০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:১৩

বিসিবি সভাপতির হঠাৎ পাকিস্তান সফর নিয়ে জানেন না সহ-সভাপতিও!

ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হঠাৎ লাহোর সফর নিয়ে নানান আলোচনা চলছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে লাহোরের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন বুলবুল। যদিও এই ব্যাপারে তেমন কিছু জানা নেই বলে গণমাধ্যমে জানান বিসিবি সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেন, ‘সভাপতি আমাকে রাতে ফোন করেছিলেন। আমি ধরতে পারেনি। ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। সকালে দেখলাম বা শুনেছি সভাপতি গেছেন। তিনি তো বলেছেন, আইসিসির কী একটা মিটিং করতে গিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে লাহোরে অবস্থান করছেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল। লাহোর সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়ার কথা এই বৈঠক। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি ও বিসিবি সভাপতি বুলবুলের সঙ্গে সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি ইমরান খাজাও এই বৈঠকে অংশ নেবেন। মূলত আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর প্রতিনিধি হিসেবেই এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন খাজা।

নিরাপত্তা ইস্যুতে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। মূলত ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে একাধিকবার আইসিসিকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল বিসিবি। যদিও ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশকে বিশেষ নিরাপত্তা দিতেও রাজি ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকরা। কিন্তু শেষমেশ বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বমঞ্চে যোগ করে নেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি।

বাংলাদেশের সমর্থনে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান সরকার। শেষ পর্যন্ত দ্য গ্রিন ম্যানরা এই সিদ্ধান্ত থেকে না সরলে আইসিসিকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতি গুনতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতির অঙ্ক ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি। জিও স্টারের সঙ্গে আইসিসির সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ চুক্তির বড় অংশই এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে। এই ম্যাচটি বাতিল হলে চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের মতো কঠিন সিদ্ধান্তেও যেতে পারে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে আইসিসির আর্থিক ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়বে, ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোতেও এর প্রভাব পড়বে।

মূলত মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরই নিরাপত্তা ইস্যুটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতের মাটিতে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় বাংলাদেশ সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু ভেন্যু পরিবর্তনের বদলে উল্টো টাইগারদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি। এই জায়গাতেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান সরকার।