০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩

ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে মুখ খুললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, আনলেন বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

শাহবাজ শরিফ  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচটি না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। শুরুতে পাকিস্তান সরকার সুনির্দিষ্ট কারণ না জানালেও এবিষয়ে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, এটি একটি ‘ভেবেচিন্তে নেওয়া নীতিগত অবস্থান’। মূলত নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রতিবাদেই পাকিস্তান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহবাজ শরিফ বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, 'টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে না খেলার বিষয়ে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি। কারণ পাকিস্তান এটা বলে আসছে, খেলাধুলার মাঠে রাজনীতির স্থান নেই।'

ভারতের মাটিতে ম্যাচ না হওয়া সত্ত্বেও কেন পাকিস্তান এই বর্জনের সিদ্ধান্ত নিল, তার ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'খেলার মাঠে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়ানো আমাদের জন্য যথাযথ সিদ্ধান্ত।'

বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন বাংলাদেশ দল নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি কঠোর অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে দেয় এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে 'অসম ও অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ' হিসেবে অভিহিত করে পাকিস্তানসহ ক্রিকেট বিশ্বের বিভিন্ন পক্ষ এর তীব্র সমালোচনা করে।

বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তান শুরুতে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটির সরকার বিশ্বকাপে সীমিত অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। তবে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে হতে যাওয়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তান অংশ নেবে না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যকার বিশেষ বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত আইসিসি ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই হয় সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আকর্ষণ। পাকিস্তানের এই বর্জনের ঘোষণায় বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত চাপের মুখে পড়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।