জাহানারার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, ব্যবস্থা নেবে বিসিবি
বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গঠিত স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি। গত ২ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে জমা দেয় জাহানারা ইস্যুতে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। এর আগে, একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর সর্বশেষ ৩১ জানুয়ারি রিপোর্ট জমার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে বিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাহানারার উত্থাপিত চার অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে বাকি দুটি অভিযোগের বিষয়ে নারী দলের সাবেক ম্যানেজার ও নির্বাচক মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিসিবির আইনি দলকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাবেক বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা অভিযোগুলো পর্যালোচনার জন্য গঠিত স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ গ্রহণ করেছে।’
বিসিবি আরও জানিয়েছে, ‘ঘটনাগুলো আগের একটি বোর্ডের মেয়াদকালে সংঘটিত হলেও অভিযোগের বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান বোর্ড ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি বিচারপতি তারিক উল হাকিমকে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন অধ্যাপক ড. নাঈমা হক (বর্তমান সদস্য, বাংলাদেশ আইন কমিশন), ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সরওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবি পরিচালক রুবাবা দৌলা। কমিটির প্রতিবেদনটি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হয় এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিসিবি সভাপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।’
বিসিবি বলছে, ‘কমিটি জাহানারা আলমের উত্থাপিত চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগ প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়নি। বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিটি বাংলাদেশ নারী দলের তখনকার নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মো. মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিসিবির সঙ্গে মনজুরুল ইসলামের চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে শেষ হয়। কমিটি পেশাগত মানদণ্ডের সঙ্গে (মনজুরুলের) অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের বিষয়টি উল্লেখ করেছে এবং পর্যবেক্ষণ করেছে যে, কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের প্রযোজ্য নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।’
বিসিবি আরও জানিয়েছে, ‘স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে বিসিবি তার জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশসমূহ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের আইনি দলকে সম্পৃক্ত করেছে। বিসিবি তার বিধিমালা ও প্রযোজ্য আইনের আলোকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে, বিসিবি হাইকোর্ট বিভাগের ২০০৯ সালের রায় অনুসারে একটি বিসিবি অভিযোগ কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এ কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন বিসিবি পরিচালক ও নারী উইং কমিটির চেয়ারপারসন রুবাবা দৌলা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গঠন এবং বাধ্যতামূলক সচেতনতা প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নের দায়িত্বও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। বিসিবি যথাসময়ে এ বিষয়ে পরবর্তী আপডেট দেবে।’