০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪৬

ভারত ম্যাচ বয়কটে কেমন শাস্তি হতে পারে পাকিস্তানের?

পাকিস্তান ক্রিকেট দল  © সংগৃহীত

বয়কটের গুঞ্জন ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে পাকিস্তান। তবে দেশটির সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ না খেলার বিষয়টিও কার্যত নিশ্চিত। দ্য গ্রিন ম্যানদের এমন সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।

ক্রিকেটের যেকোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উন্মাদনা। কেবল এই একটি ম্যাচের দিকেই কোটি কোটি দর্শকের নজর থাকে। টেলিভিশন সম্প্রচার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, টিকিট বিক্রি-সব ক্ষেত্রেই এই ম্যাচ সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও রাজস্ব তৈরি করে থাকে। সেই বিবেচনায় গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি 'না' হওয়ার সম্ভাবনা থাকা বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টের জন্য বড় ধাক্কাই।

এদিকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেললে পাকিস্তানকে একাধিক বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। প্রথমত, ম্যাচ বয়কট করায় ২ পয়েন্ট হারাবে দ্য গ্রিন ম্যানরা, গ্রুপ পর্বে তাদের অবস্থানকেও কঠিন করবে বিষয়টি। 

দ্বিতীয়ত, আইসিসির ১৬.১০.৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো দল নির্ধারিত ম্যাচ না খেললে তাদের নেট রানরেটে এর প্রভাব পড়তে পারে। যদিও ভারতের নেট রানরেটে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, তবে পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বিষয়টি।

অন্যদিকে খেলাধুলার বাইরেও এই ম্যাচের সঙ্গে বিশাল আর্থিক স্বার্থ জড়িত। ২০১২ সালের পর থেকে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না দেশ দুটি। কেবল আইসিসি ও এসিসির টুর্নামেন্টেই দেশ দুটির লড়াই দেখা যায়। এই ম্যাচ থেকে পাওয়া সম্প্রচারস্বত্ব ও বাণিজ্যিক আয়ের বড় অংশ দুটি দলই পায়। কিন্তু এবার ভারতের বিপক্ষে না খেললে সেই লভ্যাংশ থেকেও বঞ্চিত হবে পাকিস্তান, যা দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের জন্য আর্থিকভাবে বড় ক্ষতি।

এদিকে ভারতের বিপক্ষে না খেলার বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে এই সিদ্ধান্ত জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা আরও বাড়ছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর পিসিবিকে সতর্কবার্তা দেয় আইসিসিও। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি মনে করছে, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সব দল সমান সুযোগ ও নিয়ম মেনে খেলবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে।

বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, পাকিস্তান সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তারা। তবে এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যেমন ভালো হবে না, তেমনি পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্যও তা হতাশার।

আইসিসির আশা, এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচকের প্রভাবের বিষয়টি পাকিস্তান বিবেচনা করবে। আইসিসি জানায়, ‘আইসিসি আশা করে যে পিসিবি তাদের নিজেদের দেশের ক্রিকেটের ওপর এর সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করবে। কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে, যার সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেও।’