বাবরের ব্যর্থতার ম্যাচে ২৬৫০ দিন পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল পাকিস্তান
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২ রানের দাপুটে জয়েই তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছে পাকিস্তান। এই জয়ের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে দীর্ঘ ২ হাজার ৬৫০ দিন পর অজিদের হারানোর স্বাদ পেল দ্য গ্রিন ম্যানরা। সবশেষ ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর দুবাইতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। আর টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি হিসেবে আয়োজিত এই সিরিজে এমন জয় স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে নিঃসন্দেহেই।
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার ম্যাথু শট মাত্র ৫ রান করে ফেরেন। আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড কিছুটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন তিনি।
এরপর ক্যামেরুন গ্রিন একপ্রান্তে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন। ৩১ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। তবে প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ সামলাতে পারেননি তিনি।
মিডল অর্ডারে পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। চারে নামা ম্যাট রেনশো করেন মাত্র ১৫ রান, পাঁচে নামা কোপার কনলি গোল্ডেন ডাকে ফেরেন। ছয়ে নামা মাইকেল ওয়েনও ব্যর্থ হন, তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৮ রান। উইকেটরক্ষক ব্যাটার জস ফিলিপও দায়িত্ব নিতে পারেননি, তিনি আউট হন ১২ রানে। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর কখনোই অস্ট্রেলিয়ার হাতে আসেনি।
শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বোলার স্কাইভার ব্রাটলেট। তিনি ২৫ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৩৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটে ভর করেই হারের ব্যবধান কিছুটা কমে আসে।
বল হাতে পাকিস্তানের স্পিনাররা ছিলেন দুর্দান্ত। ওপেনার হিসেবে নামা লেগ স্পিনার সাঈম আইয়ুব ৩ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। ব্যাটে ও বলে দারুণ অবদানের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি। আরেক লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ ছিলেন আরও কৃপণ। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট।
বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। একইভাবে লেগ স্পিনার শাদাব খান ৩ ওভারে ২৫ রান খরচ করে একটি উইকেট তুলে নেন। স্পিন আক্রমণের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই অস্ট্রেলিয়াকে ১৪৬ রানে আটকে রেখে ২২ রানের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। গোল্ডেন ডাকে ফেরেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। তবে অন্যপ্রান্তে ঝড় তোলেন আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুব। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের চাপে রাখেন তিনি। মাত্র ২২ বল মোকাবিলা করে ৩ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৪০ রান।
এরপর ইনিংসের ভার তুলে নেন অধিনায়ক সালমান আগা। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে খেলেন ২৭ বলে ৩৯ রানের কার্যকর ইনিংস।
মিডল-অর্ডারে বাবর আজম কিছুটা সময় কাটালেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ২০ বল খেলে তার ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। ফখর জামানও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ, ১৬ বলে করেন ১০ রান।
অন্যদিকে উসমান খান ১৪ বলে ১৮ রান করে দলের রান বাড়াতে ভূমিকা রাখেন।
শেষদিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মোহাম্মদ নওয়াজ। ১৪ বলে অপরাজিত ১৫ রান করেন তিনি। এতে ১৬০ পেরোনো সংগ্রহে পৌঁছাতে সক্ষম হয় দ্য গ্রিন ম্যানরা।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম। দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রান খরচ করে একাই তুলে নেন ৪ উইকেট। মূলত তার বোলিংয়েই বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি পাকিস্তান।