২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৬

আইসিসির ফোনে সাড়া দেয়নি পাকিস্তান, শেষ মুহূর্তের নাটক চরমে

পাকিস্তান ক্রিকেট দল  © সংগৃহীত

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছেই। পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতির বড় আলোচ্য বিষয়। পাকিস্তানের গণমাধ্যমের দাবি, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ অন্তত ৮ বার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে ফোন করেছেন। কিন্তু একবারও সেই ফোনকলের জবাব দেননি নাকভি। এতে প্রশ্ন উঠছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে পাকিস্তানের কঠোর অবস্থানের কাছে শেষ পর্যন্ত কি আইসিসিকে নতি স্বীকার করতে হবে?

এই ফোনকল প্রসঙ্গের পাশাপাশি আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকের পর পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের চূড়ান্ত অবস্থান ৩০ জানুয়ারি অথবা ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানানো হবে। 

তবে পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিএনএন দাবি করেছে, শুক্রবারই পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে এবং সেই ঘোষণা আসবে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। ফলে রাজনৈতিক পর্যায়েই বিষয়টি যে গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে আলোচনায় আছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে। যদি এমন সফর হয়, তাহলে তা ক্রিকেটের বাইরেও বড় কূটনৈতিক বার্তা বহন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় আইসিসি প্রবল চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে প্রস্তুত রাখলেও, পাকিস্তানের বিকল্প হিসেবে কোনো দলকে প্রস্তুত করার মতো সময় বা বাস্তব সুযোগ আইসিসির হাতে নেই। ফলে শেষ মুহূর্তে যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ না নেয়, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়েই তৈরি হবে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

কারণ, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান; এই দুই দলই বিশ্বকাপে না থাকলে আইসিসির রাজস্ব আয়ে বড় ধাক্কা আসবে। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও দর্শক আগ্রহ—সবকিছুর ওপরই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়বে বিশ্বকাপের গ্রহণযোগ্যতা ও আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা।

যদিও পুরো বিশ্বকাপ বয়কট ছাড়াও পাকিস্তানের সামনে আরও কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের মিডিয়া। এর মধ্যে আলোচনায় শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করা, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিজেদের সম্ভাব্য জয়গুলো বাংলাদেশকে উৎসর্গ করা, কিংবা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামা। কিন্তু কোন পথে হাঁটবে পাকিস্তান, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।