২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১০

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

পাকিস্তান ক্রিকেট দল  © সংগৃহীত

আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নেবে কি না, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পিসিবি, এমনকি নিজেদের বয়কটের সম্ভাবনাও আলোচনায় এনেছে। এই প্রেক্ষাপটেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।

বোর্ড–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, চলতি সপ্তাহের শেষ ভাগেই পাকিস্তানের অবস্থান পরিষ্কার হতে পারে। তবে সম্ভাব্য যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক, আইনি ও আর্থিক দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে পিসিবি। সে কারণে পুরোপুরি বয়কটের পাশাপাশি বিকল্প পথও খোলা রাখা হয়েছে।

টেলিকম এশিয়া স্পোর্টস'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান আপাতত গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডস ও ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলবে ‘ম্যান ইন গ্রিন’। এই দুটি ম্যাচে জয় পেলে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে না খেলার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম দুই ম্যাচে ইতিবাচক ফল এলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত আরও জোরালো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে আগামী সোমবার। তার আগের দিন লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করবে পাকিস্তান।

এর আগে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির ভূমিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ জানাতে প্রস্তুত পিসিবি। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচির বিষয়েও আইসিসিকে জানানো হতে পারে। এক সূত্র জানায়, এ বিষয়ে আইসিসির কাছে লিখিতভাবে অবস্থান তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডটির।

তবে বয়কটের পথে হাঁটা যে সহজ নয়, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছে পিসিবির আইন উপদেষ্টারা। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করলে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ সম্প্রচারস্বত্ব–সংক্রান্ত বিশাল অঙ্কের চুক্তির সঙ্গে যুক্ত এই ম্যাচগুলো।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারতের জিওস্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আইসিসির প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্প্রচার চুক্তি রয়েছে, যার রাজস্ব সব সদস্য দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ বা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে আইসিসির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে সেই দায় শেষ পর্যন্ত পিসিবির ওপরই এসে পড়তে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে সব সদস্য দেশের বার্ষিক তহবিল বণ্টনের ওপর—এমন উদ্বেগও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।