টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করছে না পাকিস্তান!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থাকার অবস্থান নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমনকি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে-পরেও বয়কটের ইঙ্গিত দেন পিসিবি চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ওপর ছেড়ে দেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নাকভি। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করবে না পাকিস্তান। ফলে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।
প্রসঙ্গত, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করলেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি। বরং নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানায় বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা। সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। তবে বিসিবি নিজেদের অবস্থানে অটল থাকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। এই পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে পাকিস্তান প্রকাশ্যে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে এসেছে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একাধিকবার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির আচরণে তারা অসন্তুষ্ট এবং প্রয়োজন হলে বিশ্বকাপ বয়কটের পথেও হাঁটতে পারে পাকিস্তান। বোর্ডের ভেতরে কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলা, ভারত ম্যাচ বয়কটসহ নানা প্রতীকী প্রতিবাদের বিষয়ও আলোচনায় ছিল।
সবশেষে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের অবস্থান থেকে সরে আসেনি পিসিবি। মহসিন নাকভি জানান, ক্রিকেটকে রাজনীতির হাতিয়ার করা কারও স্বার্থে নয়, তবে মৌলিক ক্রিকেটীয় ন্যায়বোধ ও সম্মান রক্ষায় পাকিস্তান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।