২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২০

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়া নিয়ে যা বলছে আনন্দবাজার

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল  © আনন্দবাজার

বিশ্বকাপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের নয়, সরকারের বলে জানিয়েছে তারা। তবে তারা খেলতে চেয়েছিল। আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে জানিয়ে নতুন করে আর কোনও আবেদন করা হবে না বলেও জানিয়েছে বিসিবি।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, অনেকেই মনে করছেন, নিজেদের দায়মুক্ত করে এবং সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে বিসিবি নিজেদের নিরাপদ জায়গায় রাখার চেষ্টা করছে। এটি মোটামুটি পরিষ্কার, বিশ্বকাপে না খেলার জন্য বাংলাদেশকে কড়া শাস্তি দেবে আইসিসি। অনুদান বন্ধ থেকে শুরু করে নির্বাসন সবই হতে পারে। 

বিসিবি যদি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের, তা হলে শাস্তির হাত থেকে বাঁচার রাস্তা খোলা থাকবে। বিসিবির পরিচালক আমজাদ হোসেন ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার তাদের জানিয়েছিল যে, তাদের পক্ষে ভারতে খেলা নিরাপদ নয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলা আমাদের দলের জন্য নিরাপদ হবে না। আমরা আমাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। এটা নিরাপত্তার কারণে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত।’

আমজাদ হোসেন জানান, সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিসিবি আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। বেশ কয়েকটা বৈঠক হয়েছে, যেখানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকার নিজস্ব মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেয় যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সরকার তা জানিয়ে দেয়। আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে ডাকসু-ছাত্রদল মুখোমুখি, প্রশাসনের তদন্ত কমিটি

বিসিবির এ কর্মকর্তার ভাষ্য, বিসিবির পক্ষ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগ দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হয়েছে।আমরা সব সময় বলেছি যে, আমরা খেলতে চাই। কিন্তু সিদ্ধান্তটা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। যে কোনও সফরের ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (ক্লিয়ারেন্স) নিতে হয়। আমি এটাকে ব্যর্থতা বলব না।

তিনি বলে, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের তা মানতেই হবে।’

ভারতে না খেলার এ সিদ্ধান্তের সূত্রপাত হয় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর তাদের আইপিএলের দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সময় থেকে। বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। 

ভারতের কোনও শহরের নাম না করে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের যে শহরে ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল সেখানে কী ঘটেছিল এবং রাজনৈতিক নেতারা কী বলেছিলেন, তা সবার জানা। তাঁরা হুমকি দিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে সেখানে খেলতে দেওয়া হবে না। তাই আমরা সেখানে মোটেও নিরাপদ বোধ করছি না।’