২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পরিকল্পনা জয় শাহর: ভারতীয় গণমাধ্যম

জয় শাহ  © সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য বাংলাদেশ যদি ভারত সফরে রাজি না হয়, তবে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চেয়ারম্যান জয় শাহ। খবর এনডিটিভি। 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি আইসিসির বরাতে জানিয়েছে, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বর্তমানে দুবাইতে অবস্থান করছেন। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের খেলোয়াড়দের ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের’ কথা উল্লেখ করে ভারতের মাটিতে নির্ধারিত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অপরাধের ঘটনার জেরে ভারতের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ভারতে ক্রমবর্ধমান দাবির মুখে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) তাদের স্কোয়াড থেকে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে বিসিবি।

গত বুধবার আইসিসি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বাইরে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার বিসিবির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।

সোমবার আইসিসি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত স্বাধীন ঝুঁকি মূল্যায়নে এমন কোনো উপসংহার আসেনি যে বাংলাদেশ ভারতে তাদের নির্ধারিত ম্যাচগুলো খেলতে পারবে না। তারা উল্লেখ করেছে যে, ভারতে টুর্নামেন্টের সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ‘নিম্ন থেকে মাঝারি’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক বড় ক্রীড়া আসরের প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সূত্রগুলো আরও জানায়, বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নে বাংলাদেশ দল, দলের কর্মকর্তা বা ভারতের নির্ধারিত ভেন্যুগুলোর প্রতি সুনির্দিষ্ট বা সরাসরি কোনো হুমকি শনাক্ত করা হয়নি।

পেশাদার পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে তারা জানিয়েছে, কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের নির্ধারিত ম্যাচগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ‘নিম্ন থেকে মাঝারি’ মানের। এমন কোনো ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যা প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং প্রশমন ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

আইসিসি বিসিবির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পর বৃহস্পতিবার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে বিসিবি অটল রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখব। আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে খেলব না। আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। আইসিসি বোর্ডের সভায় কিছু বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুস্তাফিজুর ইস্যুটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ওই বিষয়ে তারাই (ভারত) ছিল একমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আইসিসি আমাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই। এর জনপ্রিয়তা কমছে। তারা ২০ কোটি মানুষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ক্রিকেট অলিম্পিকে যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের মতো দেশ যদি সেখানে না যায়, তবে সেটি আইসিসির ব্যর্থতা।’

বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার বলেন যে, ভারতে নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয়ে আইসিসি তাদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘নিরাপত্তার প্রশ্নে আইসিসি আমাদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আইসিসি আমাদের অভিযোগের বিষয়ে কোনো অবস্থান নেয়নি। এমনকি ভারত সরকারও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বা আমাদের শঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেনি।’

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে।

লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দলটির এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে ইতালির মুখোমুখি হওয়ার কথা, এরপর তারা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। কলকাতার ম্যাচগুলো শেষে নেপালের বিপক্ষে খেলতে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের।