১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১৫

ক্রীড়া উপদেষ্টার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিল বিসিবি

আসিফ নজরুল ও বিসিবির লোগো   © টিডিসি সম্পাদিত

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও ভেন্যু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ নিয়ে বেশকিছু হুঁশিয়ারি দেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কিন্তু তার বক্তব্যে উল্টো বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এবার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান জানান বিসিবি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যে চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি আইসিসির আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। মূলত, আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে বাংলাদেশের জাতীয় দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ছিল এটি, যা বিসিবি ও আইসিসির সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের মধ্যে হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই যোগাযোগকে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ সরানোর বিষয়ে আইসিসির চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক জবাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে বোর্ড।

এর আগে, ভারতের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা শঙ্কার প্রেক্ষিতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছার কথা জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। সেই চিঠিতে বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানায়। বিসিবি তখনই জানিয়ে দিয়েছিল, আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নেবে বাংলাদেশ।

এদিকে ক্রিকবাজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাই থেকে সরানোর কথা ভাবলেও সেগুলো শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই বা তিরুবনন্তপুরম বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিসিবি স্পষ্ট করেছে, এসব বিষয় নিয়ে এখনো আইসিসির কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা লিখিত জবাব তারা পায়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সে কারণেই ভারতের বাইরে ভেন্যু নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে এবং এই বিষয়ে আইসিসির চূড়ান্ত অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে বোর্ড।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, “আইসিসি’র সিকিউরিটি দায়িত্বে যারা আছেন, তারা একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে।”

তিনি আরও বলেছিলেন, “একটি হচ্ছে, বাংলাদেশ টিমে যদি মোস্তাফিজ অন্তর্ভূক্ত হয়। দুই হচ্ছে, বাংলাদেশ দলের যে সমর্থকরা আছে, তারা যদি বাংলাদেশের জাতীয় দলের জার্সি পরে ঘোরাফেরা করে। আর থার্ড হচ্ছে, ইলেকশন যতো এগিয়ে আসবে ততো নাকি বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।”

এরও আগে, গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) স্পষ্ট করে জানায়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে তারা ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। মূলত, ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে হঠাৎ করে তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছেও বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদন জানায় বিসিবি।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই আসরে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশাপাশি নেপাল ও ইতালি।

পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা বাংলাদেশের। একই ভেন্যুতে পরের দুই ম্যাচে টাইগারদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ইংল্যান্ড ও ইতালির। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলার সূচি ছিল বাংলাদেশের।