০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৩৬

ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ, যেসব পদক্ষেপ নিতে পারে আইসিসি

বিসিসিআই ও আইসিসি লোগো  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না জানানোর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই এখন দৃষ্টি সবার।

এর মধ্যে আইপিএল খেলা বাংলাদেশে সম্প্রচারে বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

এমন পরিস্থিতি আজই বা কাল কিংবা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি'র মধ্যে যে কোনো সময়েই একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বকাপ আইসিসির ইভেন্ট এবং যে দেশই এই ইভেন্টের আয়োজক হোক না কেন এর নিয়ন্ত্রণ থাকে আইসিসিরই হাতে, এমনকি এর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এই সংস্থাটির তত্ত্বাবধানেই নিশ্চিত হয়ে থাকে।

অর্থাৎ আইসিসিই স্বাগতিক দেশের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে।

এবার ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি। টুর্নামেন্টে ভারতে যে ম্যাচগুলো হবে তার প্রথমটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

এই বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী প্রথম বা গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ চারটি ম্যাচ খেলার কথা। এর তিনটি কলকাতায় আর একটি মুম্বাইয়ে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের কিছু করার নেই, বরং কিছু করার থাকলে সেটি আইসিসিকেই করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আইপিএল ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টে এবার একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। নিলামে তাকে কিনে নিয়েছিল কোলকাতা নাইট রাইডার্স বা কেকেআর।

আইসিসির তাহলে করণীয় কী

বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি সিরিজ বা টুর্নামেন্টের আগে যে ‘ডিটেইলস সিকিউরিটি প্লান’ নেওয়া হয় সেখানে টিমের হোটেলে অবস্থান, স্টেডিয়ামে আসা-যাওয়া, আক্রান্ত হলে ইভাকুয়েশন বা বিকল্প পথে কিভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে, কেউ আহত হলে হাসপাতালে নেওয়া- এমন সব বিস্তারিত বিষয় চূড়ান্ত করা হয়ে থাকে।

বিসিবির সাবেক পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি বলছেন, এগুলো বিস্তারিত দেখেই দেশগুলো তাতে স্বাক্ষর করে থাকে।

‘কিন্তু এখন যেহেতু বাংলাদেশের দিক থেকে একটা উদ্বেগ এসেছে। সেটি আইসিসি পর্যালোচনা করতে পারে। আমার মনে হয় বাংলাদেশ যদি সরেজমিন দেখতেও যেতে চায় সেটি আইসিসি করতে পারে। সবাই মিলেই একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে দিন শেষে ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত না হয়,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

কিন্তু বাংলাদেশ যদি আইসিসির সাথে আলোচনাতেও ভারতে না খেলার বিষয়ে অনড় থাকে,তাহলে টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে আইসিসির পক্ষে বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী নতুন কোনো ব্যবস্থা করা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সরে যাওয়ায় স্কটল্যান্ডকে সেবার টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছিল আইসিসি।

কিন্তু এবার সময় খুব কম হাতে থাকার কারণে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে না গেলে বা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশ অংশ না দিলে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ারও এখতিয়ার আছে সংস্থাটির।

তবে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে বিসিবিকে বিদ্যমান ব্যবস্থায় খেলতে রাজি করানোর পাশাপাশি ভারতীয় বোর্ডের মাধ্যমেও চেষ্টা করতে পারে আইসিসি।

আবার কোনো পদক্ষেপেই সুরাহা না হলে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ারও আছে আইসিসির, যদিও নিরাপত্তা ইস্যুতে সংকট তৈরি হওয়ায় সেই সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে বৈঠকের পরই আসলে আইসিসির দিক থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আবার অনেকের ধারণা, ইস্যুটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিবেচনা করে আইসিসি দৃষ্টি না দেওয়ার নীতি নিলে বাংলাদেশ ছাড়াই এই বিশ্বকাপ সম্পন্ন হতে পারে।

সুত্র: বিবিসি বাংলা