‘বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায় না’—মোস্তাফিজ বিতর্কে যা বললেন কংগ্রেস এমপি শশী থারুর
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়াকে ক্রিকেটের ‘অহেতুক রাজনৈতিকীকরণ’ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস এমপি শশী থারুর। খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট ও কূটনীতি দুটোরই মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থারুর বলেন, বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী মহলের দাবির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বিসিবি আইসিসিকে জানায়, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে, তবে ভারতে নির্ধারিত চারটি গ্রুপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শশী থারুর বলেন, বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এটি ক্রীড়াজগতের একটি বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিসিসিআই নিজেই যখন নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের একটি তালিকা তৈরি করে দলগুলোর সামনে উপস্থাপন করেছে, তখন সেই তালিকায় থাকা একজন খেলোয়াড়কে নেওয়ার জন্য কেকেআরকে কেন দায়ী করা হচ্ছে? মোস্তাফিজ যদি যোগ্য না হতেন, তাহলে শুরুতেই তার নাম তালিকায় থাকার কথা নয়।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে এক করে দেখার প্রবণতারও সমালোচনা করেন থারুর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায় না। দুই দেশের পরিস্থিতি, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই দুই দেশকে এক সমীকরণে ফেলা যায় না।
নৈতিক দিক থেকেও আপত্তি তুলে থারুর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভের দায় কেন কেবল ক্রিকেট বা একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে বহন করতে হবে? বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের নানা পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অথচ সব চাপ এসে পড়ছে ক্রিকেটের ওপর। মোস্তাফিজ কখনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেননি, ভারত বা বাংলাদেশের কোনো সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধেও কথা বলেননি—তিনি কেবল একজন ক্রীড়াবিদ। তাহলে এখানে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে কাকে?
তিনি আরও বলেন, যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ার কারণে সব বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে অযোগ্য ধরা হয়, তাহলে লিটন দাস বা সৌম্য সরকারের মতো হিন্দু বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা কি একই পরিণতির শিকার হতেন? যদি না হতেন, তবে সেটি কী ধরনের বার্তা দেয়? আমরা কি এমন একটি অসহিষ্ণু সমাজে পরিণত হচ্ছি, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের বিচার করা হবে?
সবশেষে থারুর বলেন, যারা তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা বিষয়টি গভীরভাবে ভাবেননি। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং এটি একটি জাতি হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি, কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করে।