বসন্তের আগমনে রঙিন ভালোবাসার দিন আজ
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফাগুনের মিষ্টি হাওয়ায় প্রেম ও ভালোবাসার আবহে ভাসছে চারপাশ। ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশের এই দিনে শুধু তরুণ-তরুণী নয়, সব বয়সী মানুষের হৃদয় রঙিন হয়ে ওঠে আপনজনের প্রতি টান, মায়া আর আবেগে। মা-বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা থেকে শুরু করে মানুষে-মানুষে সম্পর্কের বন্ধন—সবকিছুর প্রকাশের এক অনন্য উপলক্ষ আজ।
বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস উদযাপনের সূচনা হয় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। জানা যায়, ১৯৯৩ সালের দিকে সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব শফিক রেহমান দেশে দিবসটি পালনের প্রচলন শুরু করেন। লন্ডনে পড়াশোনা করায় পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দিনটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। যদিও এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিবসটি দেশে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, ভালোবাসা দিবসের সূত্রপাত প্রাচীন রোমান ঐতিহ্য থেকে। ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ নামটি এসেছে খ্রিস্টান পাদ্রি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন–এর নামানুসারে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমান সম্রাট ক্লাউডিয়াস দ্বিতীয় গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসা করার অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিঠিতে সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’—যা আজও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে আছে।
আরেকটি মত অনুযায়ী, প্রাচীন রোমে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘জুনো’ উৎসব পালিত হতো, যা বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনো–এর নামে উৎসর্গীকৃত ছিল। পরে খ্রিস্টধর্মের প্রসারের সময় ‘জুনো’ উৎসব ও সেন্ট ভ্যালেনটাইনের স্মরণদিবস মিলিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। সেখান থেকে দিনটি ইউরোপ পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে আরও কয়েকদিন আগে থেকেই রাজধানীসহ দেশের নানা জায়গায় শুরু হয়েছে বসন্তের আবহ। তবে আজ হবে প্রকৃত অর্থেই পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেন্টাইনস ডে উদ্যাপন। তরুণীরা বাসন্তী রংয়ের শাড়িতে খোঁপায় হলুদ গাঁদা আর মাথায় ফুলের টায়রায় সাজাবে নিজেদের। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরুণরাও ধরা দেবে হলুদ পাঞ্জাবি সমেত একরাশ ফাল্গুনি সাজে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্রসরোবর, হাতিরঝিল, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান সর্বত্রই তারুণ্যের জোয়ারে ভাসবে। ঢাকার বাইরেও জেলা শহর ও নানা জায়গায় বিশেষ করে ক্যাম্পাস ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো থাকবে তরুণদের দখলে।
তবে দিবসটি ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অতীতে ১৭৭৬ সালে ফ্রান্সে এবং একসময় ইংল্যান্ডে পিউরিটান শাসনামলে ভ্যালেন্টাইন উদযাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতেও বিভিন্ন সময়ে আপত্তি উঠেছে। সম্প্রতি ২০১৭ সালে পাকিস্তানের আদালত দেশটিতে ভ্যালেন্টাইন উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
বিতর্ক থাকলেও ভালোবাসা যে মানুষের চিরন্তন অনুভূতি তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বছরে একদিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন হলেও ভালোবাসা আসলে প্রতিদিনের, প্রতিক্ষণের। মানুষ বেঁচে থাকে ভালোবাসায়, এগিয়ে চলে ভালোবাসার শক্তিতেই।